সৌরভ কী ধান্দাবাজ? রাজ্যে ইস্পাত কারখানা গড়া প্রসঙ্গে দাদাকে নিয়ে কী বক্তব্য রাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবীদের?

রাজ্যে শিল্পের লগ্নি টানতে বিদেশ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাদ্রিদে লা লিগার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। জানিয়েছেন যে কলকাতায় এবার ফুটবল অ্যাকাডেমি করবে লা লিগা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও।  

গত শুক্রবার মাদ্রিদে বেঙ্গল গ্লোবাল সামিটের অনুষ্ঠান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যে তিনি ইস্পাত কারখানা গড়বেন। তিনি জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জিন্দালদের ফেলে রাখা জমিতেই তিনি তৈরি করবেন ইস্পাত কারখানা। এর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথাও বলেন তিনি। 

এই বিষয়েই রাজ্যের নানান বিশিষ্ট আইনজীবী নিজেদের মত জানালেন। সৌরভের এই ঘোষণাকে সহজভাবে নিতে নারাজ তারা। আইনজীবী আলি আফজল চাঁদ বলেন, “সৌরভ একজন প্রতারক ব্যবসায়ী। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ভালো হতে পারেন কিন্তু উনি একজন ধান্দাবাজ। যখন যাকে প্রয়োজন পড়ে, তিনি তখন তাঁকে ব্যবহার করেন। উনি বামফ্রন্টের সঙ্গে থেকে না ক্রিকেট অ্যাকাডেমি করতে পেরেছেন আর না ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল করতে পেরেছেন। সরকারের থেকে পলিসি করে কীভাবে জমি নিতে হয়, তিনি ভালোভাবে জানেন”।

আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখিয়ে শিল্প আসে না। তাই সৌরভের মুখ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটা তো একটা ডিল। সৌরভের মুখ দেখিয়ে যদি শিল্প আসে। একজন রাজনৈতিক দলের নেত্রী তাঁকে যদি খেলোয়াড়ের মুখ দেখিয়ে শিল্প আনতে হয়, তাহলে তাঁর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত”।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের কথায়, “কেউ ব্যবহার করতে চাইলেই আপনি ব্যবহার হত দিচ্ছেন কেন। আপনি ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন মানেই আপনার কোনও স্বার্থ রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন যে রাজ্যে আর ঢপ দিয়ে কাজ হচ্ছে না, তাই রাজ্যের বাইরে গিয়ে ঢপ দিচ্ছেন”।

শুধু আইনজীবীরাই নন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সৌরভের ইস্পাত কারখানা গড়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “সৌরভের সঙ্গে স্পেনের কি সম্পর্ক? বেহালা থেকে মাদ্রিদ হয়ে শালবনি! এটা শিল্প নয়। ঢপের চপ। এরকম অনেক কিছু দেখেছি। শালবনিতে আগেও কিছু হয়নি, এখনও কিছু নেই, ভবিষ্যতেও কিছু হবে না। শালবনিতে ইস্পাত কারখানার নামে ঢপের চপ হবে। তিনি বাম আমলে অশোক ভট্টাচার্য ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ম্যানেজ করে জমি নিয়েছিলেন স্পোর্টস অ্যাকাডেমি করবেন বলে। করেননি। সেই জমিতে উনি বাণিজ্যিকভাবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল করতে গিয়েছিলেন। কোর্টের নির্দেশে জমি ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। দ্বিতীয়বারে নিউটাউনে জমি নিয়েছিলেন। করেননি। তিনি এই সব ধান্দাবাজি করে নিজের অর্থ উপার্জন করতে চান”।

আরও অন্যান্য খবর