দু’দিন আগেই একরকম নীরবতা ভেঙেই ফেসবুকে দলের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় জোর জল্পনা। তবে কী ফের নিজের পুরনো দল তৃণমূলেই ফিরে যাচ্ছেন রাজীব? এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে অনেক। কিন্তু এরপরই ফের মৌনব্রত নিয়েছেন বিজেপি নেতা।
কিছুদিন আগেই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে রাজীব বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করব”। তখন থেকেই কার্যত তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা তৈরি শুরু হয়। এই বিষয়ে রাজীবকে প্রশ্নও করা হয়। তবে তিনি বলেন যে তিনি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে যেভাবে তিনি কথা বলেন, তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি তাঁর ফেসবুকে পোস্টের পর ঠিক কী ভাবছেন রাজীব? তিনি তবে ফের দলবদল করবেন। এ বিষয়ে রাজীব সাফ জানিয়ে দেন, “এ নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করব না। যা জানানোর ফেসবুকে জানিয়েছি। এর বাইরে আর কিছু বলব না”। তবে রাজীব যে বিজেপির সঙ্গে দুরত্ব রাখছেন, তা কারোরই নজর এড়ায়নি।
গত মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যখন দিল্লিতে অমিত শাহ্’র সঙ্গে বৈঠক সারছেন, সেই সময় ফেসবুকে এক সমালোচনাপূর্ণ পোস্ট করেন রাজীব। এমনকি, সেদিনের দিলীপ ঘোষের ডাকা বিজেপির বৈঠকেও যোগ দেন নি তিনি। ফেসবুকে রাজীব লেখেন, “সমালোচনা তো অনেক হল…মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি, আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত, রাজনীতির ঊর্দ্ধে উঠে ‘কোভিড’ ও ইয়াস, এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা”।
আরও পড়ুন- কথায় কথায় ৩৫৬ ধারা জারির হুঁশিয়ারি! বঙ্গে বিপাকে পড়বে না তো বিজেপি? চ্যালেঞ্জ জানাল তৃণমূল
তাঁর এই ধরণের পোস্টের পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর তৃণমূল ওয়াপসির প্রশ্ন উঠে। আর এরপরই তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের কথায় জল্পনা আরও বাড়ে। তিনি বলেন, “রাজীব আমার ছোটো ভাই। ওর বোধোদয় হয়েছে দেখে ভালো লাগছে। অনেকের তো এখনও তা হয়নি, কিন্তু ওর হয়েছে। তবে তাঁর ফের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এ বিষয়ে কিছু বলার নেই”।





