স্বামীকে একবার শেষবারের জন্যেও দেখতে পেলেন না সুজাতা, আন্তঃরাজ্য সীমানা যে বন্ধ

করোনার কুপ্রভাব মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অদৃষ্টের হাতছানিতে কত মানুষের জীবন-জীবিকা ছারখার হয়ে গেছে। কত মানুষ তাঁর আপনজনকে হারিয়েছেন চিরতরে। এই রকমই এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী হল উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ। বিয়ের চার মাস কাটতে না কাটতেই সিঁথির সিঁদুর মুছে দিল এই মারণ ভাইরাস। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সুজাতা বাবা-মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি ঘুরতে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে।

গত ২৫শে মার্চ থেকে করোনা রুখতে দেশে দফায় দফায় চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনই সুজাতাকে জীবনের সব থেকে বড় কষ্ট দিয়ে গেল। এই নিষ্ঠুর লকডাউন তাঁকে তার মৃত স্বামীর সাথে শেষ দেখাটুকু করারও সুযোগ দিল না।

‘একবার শেষবারের মতো দেখতে চাই তোমায়, ফিরে এসো…’ ফোনের অপরপ্রান্তে মৃত্যুশয্যায় ধুঁকতে থাকা স্বামীর অকাতর আবেদন শুনেছেন সুজাতা। কিন্তু সুযোগ এলো না। তিনি ছটফট করেছেন বেদনায় কিন্তু কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে লকডাউনের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ। আর এই চরম কঠিন মুহূর্তে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীর সোহাগ তার কপালে জুটল না। আর এক নির্মম, কঠিন সত্যের স্বাক্ষী হয়ে থাকলাম আমরা।

ফুলবতি গৌতম ওরফে সুজাতা। ভিটে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে। সম্প্রতি মাস চারেক আগেই ওই রাজ্যেরই অজয় গৌতমের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এরপর মাস তিনেকের সংসার। তারপর স্বামীকে ছেড়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের গলসিতে, তাঁর মামাবাড়িতে। তারপর আর দেখা হল না স্বামীর সাথে। গলসিতেই এসে লকডাউনে আটকে পড়েন সুজাতা। অন্যদিকে তিনি ফোনে জানতে পারেন স্বামী ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। এর মধ্যে ফোনে কথা হত রোজই, সুজাতাকে একবার দেখার ভারী সাধ হয়েছিল অজয়ের। রোজই বাড়ি ফেরার মিনতি করতেন তিনি। সুজাতাও এক থেকে অন্য প্রশাসনিক দফতরে হন্যে হয়ে ছুটে বেরিয়েছে। অনুরোধ করেছে যাতে একবার তাঁকে যেতে দেওয়া হয় তাঁর স্বামীর কাছে! কিন্তু প্রশাসনিক কর্তারাও যে নিরূপায়। আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। শেষ খবর আসে বৃহস্পতিবার। অজয় আর নেই! কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজাতা। ‘একবারের জন্য দেখতে পেলাম না তাঁকে… এবার তো অন্তত যেতে দিন’ গলসি থানায় আকুল কাকুতি মিনতি করেন তিনি। কিন্তু না! এবারও অনুমতি পাওয়া গেল না। স্বামী হারিয়ে সুজাতা এখন একা। ভালবাসা দিয়ে যে ঘর বুনতে শুরু করেছিল সুজাতা তাকে আজ সময়ের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

আরও অন্যান্য খবর