আর জি কর কাণ্ড নিয়ে উত্তাল গোটা রাজ্য সহ দেশ। সমস্ত স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন ন্যায় বিচারের দাবীতে। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী উঠেছে। কিন্তু এই আর জি কর কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ করায় ধর্ষণের হুমকি পেলেন এক যুবতী। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত।
আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাত দখল কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মহিলারা। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন দিনহাটার এক যুবতীও। অভিযোগ, এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেয় এক যুবক। অভিযুক্তের নাম সঞ্জয় দাস। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত সঞ্জয়, এমনটাই অভিযোগ।
ওই যুবতী এসইউসিআই নেতা আজিজুল হকের সঙ্গে দিনহাটা থানায় যান অভিযোগ দায়ের করতে। যুবতী বলেন, “আমি একজন আন্টি ও আঙ্কেলকে নিয়ে থানায় যাই। থানার লোকজন আমার এফআইআর প্রথমে নিচ্ছিল না। অনেকভাবে বুঝিয়ে এফআইআর লিখল। অনেকভাবে পুলিশকে বুঝিয়ে এফআইআর হয়। তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। এরপর আমায় বলল আধার কার্ডের জেরক্স লাগবে। আমি বললাম এই মুহূর্তে রাত হয়ে গিয়েছে আমি একা যেতে পারব না। তাই আমি ফোনে আধার কার্ডের যে ছবি ছিল তাই দিলাম। তবে সেটা নিতেও রাজি হয়নি। বলল জেরক্সই লাগবে”।
অভিযোগ সেই সময় আজিজুল হক জেরক্স করতে থানার বাইরে বেরোলে তাঁর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “আর জি কর কাণ্ডে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হচ্ছে। দিনহাটাতেও নাগরিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। শাসক দল তাঁদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একটি মেয়েকে সামাজিকমাধ্যমে ধর্ষণের হুমকি দেয় শাসক দলের এক নেতা। আমি ওই মহিলার সঙ্গে থানায় আসি। একটি জেরক্স করতে গেলে তৃণমূলের একদল দুষ্কৃতী আমার উপর চড়াও হয়ে মারধর করে”।
আরও পড়ুনঃ স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পরও র্যাগিং থামে নি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে! স্বপ্নদীপের মতোই একইভাবে ফের র্যাগিংয়ের শিকার আরও এক পড়ুয়া, কবে বন্ধ হবে এই অত্যাচার?
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশু ধর বলছেন, “এমন কোনও ঘটনার কথা আমার জানা নেই। আর জি করের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন নেমেছে। এদিকে দিনহাটার পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। হুমকির ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কেউ যুক্ত নয়”।





