দিব্যি স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার করছেন, কিন্তু সরকারের খাতায় তিনি মৃত, বন্ধ হয়ে গেল আয়েশা বিবির লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা

দিব্যি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার করছেন তিনি। কিন্তু সরকারি খাতায় তিনি ‘মৃত’। আর এর জেরে কোনও প্রকল্পের সুবিধাই পাচ্ছেন না আয়েশা বিবি। এমনকি, রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও এখন বন্ধ তাঁর।

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে মহিষাদলের বামুনিয়া গ্রামে। ইটামগরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় রয়েছে এই গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী আয়েশা বিবি। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার তাঁর। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যে তাককা প্রতি মাসে তিনি পান, তা দিয়ে সংসারে কিছু উপকার হয় তাঁর। কিন্তু আয়েশা বিবি লক্ষ্য করেন বেশ কিছুমাস ধরেই গ্রামের অন্য মহিলারা টাকা পেলেও, তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না টাকা।

ব্যাপারটা কী, তা খোঁজ নিতেই সামনে আসে আসল ঘটনা। তিনি জানতে সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজেকে এখন জীবিত বলে প্রমাণ করতে ৬ মাস ধরে পঞ্চায়েত অফিস থেকে বিডিও অফিসে ছোটাছুটি করছেন আয়েশা। কিন্তু এখনও নিজেকে ‘বাঁচিয়ে’ তুলতে পারেন নি তিনি।

কী জানাচ্ছেন আয়েশা বিবি?

আয়েশার কথায়, “গত এপ্রিল মাস থেকে আমার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে না। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পর পর কয়েক মাস টাকা না আসায় সন্দেহ হয়। পঞ্চায়েত অফিসে যাই। গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানই জানান, বিডিওর কাছে যেতে। গত ২৮ নভেম্বর বিডিওর কাছে অভিযোগ করেছি”।

এহেন ঘটনায় ইটামগরা- গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রামকৃষ্ণ দাসের কথায়, “একজন গরিব মানুষের টাকা আটকে রয়েছে, এর থেকে খারাপ আর কী বা হতে পারে। ব্লক প্রশাসন যেন বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়”।

মহিষাদলের বিডিও বরুণাশিস সরকার জানান, জন্ম-মৃত্যুর পোর্টালে আধার লিঙ্কে ভুলের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপভোক্তাকে। বিডিওর কথায়, “আমার নজরে বিষয়টা এসেছে। গ্রামপঞ্চায়েত থেকে এন্ট্রি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা হয়েছে। রিপোর্ট নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সমস্যা নেই, সংশোধন হয়ে যাবে”।

RELATED Articles