পেটের জ্বালা বড় দায়! খাবার জোটে নি, দাদাকে ভাত খেতে দেখেই পাথর দিয়ে মেরে মাথা থেঁতলে খুন করল ছোটো ভাই

দুই ভাই একসঙ্গেই থাকে। মা-বাবা কেউ নেই। দুই ভাই-ই তাই একে অপরের সহায়। দাদা দিনমজুর। দাদার সেই অল্প টাকাতেই যা হয় দুইভাই দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে জীবন কাটাচ্ছিল। কিন্তু খিদের জ্বালা যে বড় দায়। খিদের জ্বালাতেই একমাত্র দাদাকে নৃশংসভাবে খুন করল ছোটো ভাই।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানার কার্তিক এলাকায়। সেখানেই মাসির বাড়িতে থাকত দুই ভাই বাবুলাল কুজুর ও বিমান কুজুর। বাবুলালের বয়স ২৮ ও বিমান ১৬ বছর বয়সী। অনাথ তারা। বাবুলাল দিনমজুরি করে যা পায় তাতেই চলে দুই ভাইয়ের সংসার। নিজেই রান্না করে ছোটো ভাইকে খাওয়াত বাবুলাল। কিন্তু সেই ভাই-ই খুন করল তাঁকে।

জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে বাবুলাল রান্না করে খেতে বসে পড়েছিল। দাদাকে আগে ভাত খেতে দেখেই মাথায় রক্ত চড়ে যায় বিমানের। দাদাকে খাবার ছেড়ে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সে। তখন দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় বচসা। বাবুবাল বেশ মারধরও করেন ছোটো ভাইকে। একে তো পেটে খিদের জ্বালা, তার উপর আবার মার, সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে বড় দাদার উপর।

দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আচমকাই ঘরে পড়ে থাকা একটি ইট তুলে সোজা বাবুলালের মাথায় আঘাত করে বিমান। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বাবুলাল। কিন্তু তখনও বিমানের রাগ কমে নি। সামনে থাকা পাথর দিয়ে ফের থেঁতলে দেয় দাদার মাথা, এমনটাই অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হল বাবুলালের।

রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই পড়ে থাকে বাবুলাল। এরপর দাদা আর বেঁচে নেই তা বুঝতে পেরে অন্য চাল খাটায় বিমান। এরপর দাদার দেহ লোপাটের জন্য বাড়িতেই মাটি খুঁড়তে থাকে সে। প্রায় চার ফুটের গর্ত করে বিমান। সেই করতে করতেই সকাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘শুভেন্দুকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে কে বারণ করেছে…’, ফের কী শুভেন্দু-দিলীপ দ্বন্দ্ব গেরুয়া শিবিরে? 

দাদার ভারী শরীর এক টেনে ওই গর্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু তা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। সেই সময়ই এক প্রতিবেশী দেখে ফেলে বিমানকে। তিনিই শামুকতলা থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। ছোটো ভাই বিমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জুভেনাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

RELATED Articles