আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার সাড়ে তিনমাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনা এখনও বিচারহীন। সুপ্রিম কোর্ট ও শিয়ালদহ আদালতে চলছে এই মামলা। কতদিনে আদৌ এই ঘটনার কিনারা হবে, তা নিয়ে সন্দিহান নির্যাতিতার মা-বাবা। মেয়ের জন্য সুবিচারের আর্জি নিয়ে এবার আমকাই বিধানসভায় গেলেন তারা। দেখা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে।
আজ, মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ বিধানসভায় যান নির্যাতিতার মা-বাবা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সঙ্গে পৌঁছন তারা। নির্যাতিতার মা-বাবাকে নিয়ে টাউন হলের দিক দিয়ে গাড়ি নিয়ে বিধানসভায় ঢোকেন সজল ঘোষ। এরপর সোজা তারা চলে যান শুভেন্দু অধিকারীর কক্ষে। সেখানে শুভেন্দু ছাড়াও বিজেপির আরও বিধায়করা ছিলেন।
এদিন নির্যাতিতার মা-বাবা আর্জি জানান যাতে তাদের মেয়ের সুবিচারের দাবীতে আন্দোলন জারি থাকে। এর সঙ্গে আদালতের লড়াইয়েও তাদের সহযোগিতা চান নির্যাতিতার মা-বাবা। সুবিচারের জন্য আন্দোলন জারি রাখা খুব জরুরি বলে মনে করেন তারা।
এদিন নির্যাতিতার মা বলেন, “আমার পাশে সবাই যে ভাবে দাঁড়াচ্ছে, আগামী দিনে আপনাদেরও আমার পাশে চাই। আমার মেয়েটা কী এমন অপরাধ করল, তাঁকে এমন নির্মমভাবে মারা হল”। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসে তাঁর। ধরা গলায় নির্যাতিতার বাবা বলেন, “সেই রাতে আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছিল, তা জানতেও পারলাম না”। নিজের রুমাল দিয়ে নির্যাতিতার বাবার চোখ মুছিয়ে দেন শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, এদিন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গেও দেখা করতে পারেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
এদিন শুভেন্দু তাদের আশ্বাস দেন, তিলোত্তমার সুবিচারের দাবীতে আগামী ১০ ডিসেম্বর আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে ধর্নায় বসবে। তিনি এও স্পষ্ট জানান, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও স্বার্থ ছাড়াই এই দাবী তুলবেন তারা। দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়, সেই দাবীই জানাবেন তারা।
প্রসঙ্গত, আর জি করের ঘটনায় রাজ্য সরকারের উপর অনেক আগেই যে তারা আস্থা হারিয়েছেন, তা জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাদের দাবী, সিভিক ভলান্টিয়ারকে বলির পাঁঠা করে আসল দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। ভাইফোঁটার দিন সোদপুরে নির্যাতিতার বাড়ি গিয়ে তাঁর মা-বাবগার সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তারা বিধানসভায় এলেন শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতে।





