আর জি করের ঘটনা নিয়ে এখন গোটা রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। এই ঘটনায় বারবার রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নিজের কর্মক্ষেত্রেই সুরক্ষিত নন মহিলারা। তাহলে আর মহিলাদের উন্নয়নের জন্য এত এত প্রকল্পের মানে কী! রাতের অন্ধকার হোক বা দিনের আলো, সব সময়ই সব জায়গাতেই যেন নারীরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছে। নারীরা যে কেবল রাতে নয়, দিনের প্রকাশ্য আলোতেও অসুরক্ষিত তা ফের প্রমাণ হল এক ঘটনায়। দিনের আলোতেই রাস্তার মাঝে কোপানো হল এক নাবালিকাকে।
নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য। এরই মাঝে শহরের উপকণ্ঠে এবার ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক একাদশ শ্রেণীর যুবকের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্য রাস্তায় নাবালিকার মাথায় একের পর এক কোপ বসায় যুবক।
এমন ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে বরাহনগরের প্রফুল্লনগরে। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার মায়ের সঙ্গে ফিরছিল ওই নাবালিকা। সেই সময় আচমকাই এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাবালিকার মাথায় এলোপাথাড়ি কোপ বসাতে থাকে। এমন আকস্মিক ঘটনায় থমকে যান পথচলতি মানুষ। প্রথমে কেউ বুঝেই উঠতে পারছিলেন না আসলে কী ঘটে গেল মুহূর্তে। এরপরই ওই যুবককে ধরে ফেলেন লোকজন। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। এলাকার লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে।
কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীদের কথায়, ওই যুবক নাবালিকাকে পছন্দ করত। সেই কথা সে জানিয়েছিল নাবালিকাকে। কিন্তু সেই নাবালিকা তাকে না বলে দেয়। সেই রাগেই এই কোপ বলে মনে করা হচ্ছে। যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “ছেলেটার রাস্তার পাশেই ওদের আসার অপেক্ষা করছিল। যেই দেখেছে আসছে সঙ্গে দা বের করে আক্রমণ করে। গলায়, ঘাড়ে, মাথায় এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে। মেয়েটার পাশাপাশি ওর মাকেও মেরেছে। যারা এসেছিল বাঁচাতে তাঁদের উপরেও আক্রমণ করে। মেয়েটা এখন আশঙ্কা এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে কী কারণে এমনটা হয়েছে আমরা ঠিক জানি না। অনেকই বলছে, ছেলেটার মেয়েটাকে ভাল লাগতো। মেয়েটা না বলাতেই রেগে গিয়ে এটা করেছে। আবার অনেকে বলছে পুরনো কোনও শত্রুতার কারণে এমনটা করেছে। ছেলেটাকে থানায় ধরে নিয়ে গিয়েছে”।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার কোনও কথা শোনা হয়নি…’, এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের সন্দীপ ঘোষের, তাঁর আবার কী অভিযোগ?
অন্য এক বাসিন্দা বলেন, “পুলিশ এসে তো শুধু ছেলেটাকে তুলে নিয়ে গেল। তারপর কী করছে জানি না। আমাদের তো কিছুই জিজ্ঞেস করলো। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা ঘটে কী করে”?






