ব্রিটিশ ডাক্তার! শহরের ফুটপাতবাসীদের কাছে তিনিই ভগবান, বিনামূল্যে করেছেন চিকিৎসা, ব্যবস্থা করেছেন পথশিশুদের পড়াশোনার, চেনেন সেই ডাক্তার জ্যাককে?

Contribution of Dr. Jack: চার দশক ধরে কলকাতার অলিগলি, বস্তি এবং ফুটপাত তার পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিল। এই শহরের সমস্ত ফুটপাতবাসী যেন তার আপনজন। বহু বছর আগে সুদূর ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় ছুটে এসেছিলেন এই ব্রিটিশ ডাক্তার, সঙ্গে ছিল শুধু তার মেডিক্যাল ব্যাগ আর কিছু ওষুধপত্র। শহরের যে সব এলাকা উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি, সেসব জায়গাকেই তিনি আপন করে নিয়েছিলেন (Contribution of Dr. Jack)

অত্যন্ত দরিদ্র ফুটপাতবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে শুরু করে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগের ওষুধ বিতরণ এবং পথশিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কলকাতার অন্তত পাঁচ লক্ষ দুঃস্থ মানুষকে তিনি বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছিলেন (Contribution of Dr. Jack)। ডক্টর জ্যাকের মন আজও মন কলকাতাতেই পড়ে থাকে। ১৯৩০ সালে ম্যাঞ্চেস্টারে জন্মগ্রহণ করা জ্যাক অক্সফোর্ডে পড়াশোনা শেষ করার পরে আট বছর ধরে কার্ডিগানে নিজের খামারে চাষবাস করতেন। হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার হবেন। খামার বিক্রি করে ৩৫ বছর বয়সে মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

ডাক্তারি পাশ করার পর প্রথমে বাংলাদেশে যান। সদ্য স্বাধীন দেশে চিকিৎসকের অভাবের কথা রেডিওতে শুনে সেখানে পাড়ি দেন। সেখানে চরম দারিদ্র দেখে তিনি মানসিক ধাক্কা খেয়েছিলেন। অন্য কেউ হলে সেখান থেকে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিতেন, কিন্তু জ্যাক থেকে যান (Contribution of Dr. Jack)। ফুটপাতবাসীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা করেন।

সেখানে শিশু পাচার সংক্রান্ত ঝামেলার হদিশ পেয়ে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন, তবে বাংলা শিখে নেন। তিনি বাংলা শিখে গেছিলেন তাই কলকাতা আসার কথা ভাবেন। আর তারপরেই তার কলকাতায় প্রবেশ। হেস্টিংস, খিদিরপুর এলাকার বস্তি ও ফুটপাতের বাসিন্দাদের চিকিৎসা করে শহরের সঙ্গে আত্মীয়তা গড়ে তোলেন। প্রথম দিকে নিজে-নিজেই বস্তি এলাকায় যেতেন। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত রোগীদের যারা দেখতেও ভয় পেতেন তাদের জড়িয়ে ধরতেন এই ডাক্তার বাবু (Contribution of Dr. Jack)

মিডলটন রো’তে একটি ক্লিনিক খোলার পরিকল্পনা নেন। বাঁশের খুঁটি পুঁতে প্লাস্টিক টাঙিয়ে ক্লিনিক তৈরি করেন। রোগীদের ভিড়ও বাড়ে (Contribution of Dr. Jack)। তবে চিকিৎসার খরচ মেটাতে তিনি ও তাঁর সংগঠনের কর্মীরা ভিক্ষা করতে শুরু করেন। এর মধ্যেই বাধা আসে। ক্লিনিক চালানোর অনুমতি না থাকায় অভিযোগ ও গ্রেফতার হয়। কিছু দিন হাজতবাসও করেন। জামিনে মুক্তি পেলেও মামলা চলতে থাকে। পর্বতারোহী এডমান্ড হিলারি সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং মামলা নিষ্পত্তি হয়।

এত মানুষের জীবন বাঁচিয়ে এখন তার নিজেরই শরীর সায় দিচ্ছেনা। তাই তিনি ফিরে গিয়েছেন ইংল্যান্ডে। বিশ্রামে আত্মীয় বন্ধু-বান্ধবদের থেকে অন্তরালে একাই থাকেন তিনি। তবে তিনি মনে মনে আজও কলকাতার অলিতে গলিতে থাকেন। কলকাতার বহু অসহায় মানুষের মনে তিনি আছেন, থাকবেনও (Contribution of Dr. Jack)

RELATED Articles