প্রেমে ধোঁকা খেয়ে কত প্রেমিক-প্রেমিকারাই বিনিদ্র রজনী যে কাটিয়েছেন, তর ইয়ত্তা নেই। এবার সেই ছ্যাঁকা খাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকাদের কথা ভেবেই ভ্যালেন্টাইনস ডে ১০ দিন আগেই এক অনন্য অফার নিয়ে এল এক বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা।
ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে কত বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাই কত ধরণের অফার দিয়ে থাকে। কার্ড, ফুল, হরেক ধরণের চকলেট, মোমবাতির আলোয় নৈশভোজ, এমন নানান বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায়। তবে এবার প্রেমে প্রতারিতদের জন্যও ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে অফার নিয়ে এল এক বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা।
কিন্তু এমন করে তাদের কী লাভ? তাদের বিজ্ঞাপনেই রয়েছে এর উত্তর – টাকা আবার কী! এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে ‘জব উই মেট’ ছবির গীত অর্থাৎ করিনা কাপুরের কথা মনে পড়ে যায়। প্রেমিকের থেকে ধোঁকা খেয়ে আদিত্য অর্থাৎ শাহিদ কাপুরের কথায় প্রাক্তনকে গালমন্দ করেন গীত। এক্ষেত্রে গালমন্দ নয়, একটু অন্য পন্থা এনেছে এই বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা প্রাক্তনের থেকে বদলা নেওয়ার জন্য।
ওই বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, “প্রাক্তনের নামে একটি আরশোলার নাম রাখুন। তারপর ওই আরশোলাটিকে জলজ্যান্ত অবস্থায় আমরা কোনও জন্তুকে দিয়ে খাওয়াবে”। এই নাম রাখতে খরচ পড়বে ৫ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে তিনশো টাকার কিছু বেশি।
এরপর আর কোনও খরচ নেই। প্রাক্তনের নামধারী আরশোলাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেবে ওই বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাই। আর এই গোটা ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার হবে নেট মাধ্যমে। যাতে হিংস্র জন্তুর মুখে আরশোলারূপী প্রাক্তনের শেষ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন প্রেমে ধোঁকা খাওয়া প্রেমিক বা প্রেমিকারা।
এমনকি, বিজ্ঞাপনে এও বলা হয়েছে যে প্রাক্তনের নামের আরশোলাটির নিধনের শংসাপত্রও দেওয়া হবে তাঁদের। আর এসবের জন্য লাগবে স্রেফ ওই সাড়ে তিনশো টাকা। অনুদান হিসেবে এই টাকা নেবে সংস্থাটি।
আফ্রিকার একটি চিড়িয়াখানার তরফে এই বিজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানাটির নাম লেহিগ ভ্যালি জু। তাদের তরফে এও জানানো হয়েছে যে প্রেমে ধোঁকা খাওয়া প্রেমিক প্রেমিকারা চাইলে প্রাক্তনের নামে আরশোলার বদলে অন্য কোনও বিষাক্ত পোকামাকড়ের নামও রাখতে পারেন। পোকামাকড়ের রকমফের অনুযায়ী বেছে নেওয়া হবে কোন জন্তুকে দিয়ে তাদের খাওয়ানো হবে।
এই গোটা পুরো ব্যবস্থাটির একটি নামকরণও করেছে ওই চিড়িয়াখানা- ‘বাগ অফ’। এ ক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে ‘বাগ’ শব্দটি পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে ও ‘অফ’ শব্দটি দমন করার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইংরেজি এই শব্দবন্ধটির সাধারণত ‘ভাগ হতচ্ছাড়া’ গোছের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।






