বিগত ছয় বছর ধরে ১১ বছরের একটি বাচ্চা কোমায় রয়েছে। চারতলার একটা অসংরক্ষিত বিল্ডিংয়ের উপর থেকে নিচে পড়ে গেছিল সে। তারপর থেকে আর কারোর ডাকেই সাড়া দেয়নি বাচ্চা ছেলেটি। সবাই তাকে টাইগার বলে, টাইগারদের এরম অসুস্থ হয়ে শুয়ে থাকা মানায় না। তাই বন্ধুকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে তার বন্ধুরা। যখন রাজু জীবন যুদ্ধে লড়তে লড়তে একদিন আত্মহত্যা করে তখন তখন রাজু কোমায় চলে গেছিল তখন রাজুর প্রাণের দুই বন্ধু তাকে বাঁচিয়ে তুলতে মরিয়া হয়ে পড়েছিল। বাস্তবের সাথে সিনেমার মিল থাকেনা, তবে আমাদের জীবনে এমন অনেক কিছু বাস্তব ঘটনা ঘটে যা একেবারেই সিনেমার মতো।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেই ভিডিও মারফত জানা গেছে, নয়া দিল্লির বাসিন্দা আশ্রয় ভাটিয়া নামের ১১ বছরের খুদে তাদের চারতলার বিল্ডিং এর উপরের একটি খোলা জায়গা থেকে নিচে পড়ে যায়। চার তলার উপর থেকে নিচে পড়ে মাথা গুরুতর আঘাত পায় আশ্রয়। এরপর ২১ ভেন্টিলেশনে থাকে আশ্রয়। তারপর ওই হাসপাতালে এই চারমাস ভর্তি থাকে সে। তবে জানা যায় আশ্রয় কোমায় চলে গেছে।
যখন এক্সিডেন্ট ঘটেছিল তখন আশ্রয়ের বয়স ছিল ৫। বাড়িতেই কেটেছে ছটি বছর। হাসপাতালের মতো ব্যবস্থা করে বাড়িতে ছেলেকে এনে রেখেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ও চৈতন্য অবস্থায় শুয়ে রয়েছে আশ্রয়। চারিদিকে নল লাগানো, তাকে ঘিরে রয়েছে তার বন্ধুবান্ধব। ভিডিওটিতে দেখা যায় ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে বা নানান রকম কথা বলে বন্ধুকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে ওই খুদেরা। ওই খুদেদের কেউ বলছে, “তোকে সবাই টাইগার বলে ডাকে তোকে উঠতেই হবে।” আবার কেউ বলছে, “তোকে সোনার জুতো কিনে দেব, ক্রিকেটে চার ছয় কে মারবে। কিন্তু প্লিজ উঠে পড় তুই।”
আশ্রয়ের পরিবার ছেলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য বিল্ডিং কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। বহুদিন ধরে ওই রেসিডেন্সের চারতলার বিল্ডিং উন্মুক্তভাবে পড়ে রয়েছে। বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে কর্ণপাত করেন না। তবে এই ভিডিওতে আশ্রয়কে ফিরিয়ে আনার জন্য ওর বন্ধুদের কাকুতি মিনতি সত্যিই আপনার চোখে জল আনতে বাধ্য। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে এমন বন্ধুত্ব পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।





