মনের শক্তিই আসল! বাবা মৃত, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁইও, হতদরিদ্র চা বিক্রেতা মায়ের ছেলে এবার খেলতে যাচ্ছেন প্যারিস অলিম্পিকে

Sagar Islam: স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন বাবা। বিধবা মা বিগত ১৫ বছর ধরে চা বিক্রি করে ছেলেকে মানুষ করেছেন। এবার সেই দরিদ্র চা বিক্রেতা মায়ের ছেলে খেলতে যাচ্ছে প্যারিস অলিম্পিকে। মহম্মদ সাগর ইসলাম (Sagar Islam), আগামী ২৬ শে জুলাই শুরু হতে যাওয়া প্যারিস অলিম্পিকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সাগর। অলিম্পিকে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে এই ১৮ বছরের ছেলেটি। যে দেশের প্লেয়ারদের এই অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য ওয়াইল্ড কাডের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। সেই দেশেরই একজন চা বিক্রেতা মায়ের ছেলে (Sagar Islam) নিজের প্রতিভার জোরে পৌঁছে গেল অলিম্পিকে।

সাগর ইসলামের (Sagar Islam) তীরন্দাজ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক বিধবা মায়ের সংগ্রাম। সাগরের বাবা শাহ আলম ছিলেন একজন টেম্পো মিস্ত্রি। ২০০৯ সালে মাত্র ৪৫-৪৬ বছর বয়সেই অকালে মারা যান সাগরের বাবা। সেই থেকেই সংগ্রাম শুরু রাজশাহী শহরের ছোট বনগ্রামের বাসিন্দা সেলিনা দেবীর। সেলিনা দেবী তখন চার সন্তানের মা, ছেলে মেয়েদের মানুষ করার চিন্তা। সেলিনা দেবী বুঝতে পারছিলেন না কিভাবে বাচ্চাগুলোর মুখে খাবার তুলে দেবেন। অগত্যা পেটের দায়ে ফুটপাতের উপর চা বিক্রি করা শুরু করলেন।

ভোর পাঁচটায় উঠে চায়ের দোকানে চলে যেতেন সেলিনা দেবী। দোকান থেকে ফিরতেন রাত এগারোটায়। ‌ এভাবেই ছেলেমেয়েদের কলেজ পাশ করিয়েছেন তিনি। এভাবেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। চার সন্তানের মধ্যে সবথেকে ছোট সাগর (Sagar Islam)। এখন সে ক্লাস ইলেভেনে পড়ছে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল সাগরের। সেলিনা দেবীর দোকানের সামনেই ছিল আর্চারি ক্লাব। সেখানে শেখানো হতো তীরন্দাজি। সাগরের এই বিষয়ে আগ্রহ দেখে তীরন্দাজিতে ভর্তি করে দিয়েছিলেন সাগরকে। প্রতিমাসে সেখানে বেতন দিতে হত ৫০০ টাকা। তারপর ছেলেকে ভর্তি করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে বিগত ৫ বছর ধরে অনুশীলন করছে সাগর (Sagar Islam)

বাংলাদেশ ক্রীড়া অ্যাসোসিয়েশন ছ’জন ক্রীড়াবিদদের জন্য ওয়াইল্ড কার্ড চেয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে। কিন্তু এখনও সেখান থেকে কোন উত্তর আসেনি। নিজের ক্ষমতায় সাগর (Sagar Islam) নিশ্চিত করেছে অলিম্পিকের টিকিট। তুরস্কের আন্তালিয়ায় ২০২৪ ফাইনাল ওয়ার্ল্ড কোটা টুর্নামেন্টে ছেলেদের বিভাগে ভালো খেলে এই সুযোগ আদায় করেছে সাগর। এটি ছিল প্যারিস অলিম্পিকের আগে আর্চারিতে ছেলেদের রিকার্ভ ইভেন্টে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের শেষ সুযোগ। সেমিফাইনালে উঠে অলিম্পিকে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে সাগর (Sagar Islam)

সাগরের (Sagar Islam) মা দীর্ঘদিন কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। তবে পেটের দায় আজও তিনি চা বিক্রি করে চলেছেন। সেলিনা দেবীর বড় ছেলে এখন এসে মায়ের কাজে হাত লাগান। ছোট ছেলের সাফল্যের কথায় সেলিনা দেবীর চোখে জল আসে। আজও সাগর দের মাথা গোঁজার পাকাপাকি ঠাঁই নেই। সবকিছুর মাঝে হাল ছাড়েনি সেলিনা দেবী।

আরও অন্যান্য খবর