বেকাররা হবেন চিন্তামুক্ত! চাকরি দিচ্ছেন স্বয়ং মা কালী, রাজ্যের এই জাগ্রত মন্দিরে পুজো দিতে ছেলেমেয়েরা আসছেন দিল্লি-মুম্বাই থেকে

চাকরি দিচ্ছেন মা কালী। বাঁকুড়ার সোনামুখী অঞ্চলের ‘সার্ভিস কালী’ (Service Kali) ভক্তদের দাবি, চাকরির বাজারে মন্দা থাকলেও মায়ের পায়ে পুজো দিলেই নাকি চাকরি একেবারে পাকা। গত ৮৪ বছর ধরে এই বিশ্বাস রেখেই দিল্লি, মুম্বাই, রাজস্থান, কলকাতার ছেলেমেয়েরা ছুটে আসেন বাঁকুড়ার ‘সার্ভিস কালীর’ পুজো দিতে। যারা অনেকদিন চেষ্টা করার পরেও ভালো চাকরি পাচ্ছেন না, যারা লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেও ইন্টারভিউতে পাস করতে পারছেন না- তাদের জন্য চাকরি নিয়ে বসে থাকেন ‘সার্ভিস কালী’ (Service Kali) ঠাকুর। অবাক লাগছে? তবে এটাই সত্যি।‌

বর্তমানে যেখানে সরকারি বেসরকারি সমস্ত রকম চাকরির বাজারে মন্দা, চারিদিকে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। সেখানে একটা মূর্তির (Service Kali) কাছে পূজা দিলেই চাকরি হয়ে যাচ্ছে এ কথা বিশ্বাস করেন না অনেকেই। সোনামুখী অঞ্চলের লোকজনেরা বলেন, “যদি কেউ কোন ফলাফল না পেত, তাহলে গত ৮৪ বছর ধরে কেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছেলেমেয়েরা এখানে ছুটে আসছে।”

বাঁকুড়া শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোনামুখী পুরসভা। এই সোনামুখীকেই এক কথায় কালীক্ষেত্র বলা হয়। সোনামুখী অঞ্চলে যে পরিমাণ কালীপুজো হয়, তা পশ্চিমবঙ্গের আর কোথাও হয় না। এই সোনামুখী অঞ্চলেরই ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিখ্যাত ‘সার্ভিস কালী’ (Service Kali) মন্দির। স্থানীয় এলাকায় এই মন্দিরকে ষোলোআনা সার্ভিস কালী (Service Kali) মন্দিরও বলা হয়।

মা কালী (Service Kali) কিভাবে চাকরি দিচ্ছে ?

যে সময় সোনামুখীর এক শ্রেনীর বাস মালিকপক্ষ কিছুতেই বাস চালানোর জন্য সরকারি লাইসেন্স পাচ্ছিলেন না, সমস্ত চেষ্টা করার পরেও তখন তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তখন তারা এই মা কালীর (Service Kali) কাছে ষোলো আনা দিয়ে মানত করেন। আশ্চর্য রকমভাবে কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সেই আটকে থাকা লাইসেন্সের কাজ হয়ে যায়। শুরু হয় বাস সার্ভিস। এই বাস সার্ভিসের সার্ভিস কথাটা থেকেই ‘সার্ভিস কালীর’ (Service Kali) উৎপত্তি।

এই ঘটনার পর থেকেই ‘সার্ভিস কালীর’ (Service Kali) মহিমা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এরপর থেকে চাকরি বা ব্যবসা সংক্রান্ত কেউ কোন মনস্কামনা করলেই তা পূরণ হয়। তাই এই সার্ভিস কালীর নাম স্থানীয় অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলায়। এখন দিল্লি, মুম্বাই, বিহার, রাজস্থান থেকেও ছেলেমেয়েরা এসে মানত করে যান।

মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার পর সার্ভিস কালীকে (Service Kali) দুই হাত ভরে উপহার দিয়ে যান ভক্তরা।‌ গায়ে লক্ষাধিক টাকার গয়না, পরনে দোকানের সবচেয়ে দামি শাড়ি , বর্তমানে এই সার্ভিস কালীর অপরূপ শোভা দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে যে কারোর। ‌ তবে মন্দির কমিটির দাবি, মায়ের (Service Kali) কাছে কেউ যদি মাত্র এক টাকা দিয়ে চাকরি চায় তাহলেও দায়িত্ব নিয়ে তার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন‌ সার্ভিস কালী মা। তাই কালী পূজার সময় ছাড়াও সারা বছরই এই মন্দিরে ভিড় লেগে থাকে। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে এই মন্দিরে পুজো দিয়ে যান। স্থানীয় মানুষের দাবি মা (Service Kali) কাউকে খালি হাতে ফিরতে দেন না।

আরও অন্যান্য খবর