স্নাতকোত্তর, বিএড ডিগ্রিতেও মেলেনি চাকরি, স্বামী চাকরিহারা, পরিবারের পেট চালাতে ট্রেনে হকারি করছেন উচ্চশিক্ষিতা সুপ্রিয়া

Struggle Life of Housewife: ভূগোলের স্নাতকোত্তর, রয়েছে বিএড ডিগ্রিও তবু মেলেনি চাকরি। শিক্ষা যোগ্যতা দুই থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যের পরিহাস। সংসার চালাতে ট্রেনে বাসে হকারি করেন গৃহবধূ বৃষ্টি। তার আসল নাম সুপ্রিয়া পাল। ক্রেতাদের কাছে বৃষ্টি নামেই পরিচিত। পরিবারেরও আছেন তার স্বামী, শাশুড়ি, দুই ছেলে মেয়ে। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতেই পথে নামেন বৃষ্টি (Struggle Life of Housewife)

বৃষ্টির বাবা ছিলেন ক্যান্সারে আক্রান্ত। হকারি করে সংসার চালানোর লড়াইটা শুরু তখন থেকেই। ২০১১ সালে বিয়ে হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। স্বামী বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। সে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন বৃষ্টির স্বামী। এরপরেই সংসারের হাল ধরতে আরো একবার পথে নামেন তিনি (Struggle Life of Housewife)

সুপ্রিয়া জানিয়েছেন, “আমার পারিবারিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এমন দিন গেছে যেটা বলার কথা নয় আজকে। খুবই খারাপ ছিল। আমি সেটা বলতে পারিনি কখনো। কোনদিনও কাউকে বলতে পারিনি। বিয়ের পরে আর কি বাপের বাড়িতে বলা যায়? আমি জানি পরিশ্রম করলে সফলতা আসবে ,আমি পরিশ্রম করি সফলতা পাবই (Struggle Life of Housewife)। আমার যে সাহস ইচ্ছা রয়েছে তার জন্যই আমি মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি।”

ওই গৃহবধূ সুপ্রিয়া পালের কথায়, “লেডিস বগিতে উঠে পাটিয়ালা,কুর্তি, টপ, শর্ট টপ বিক্রি করি। মোটামুটি ডেলি প্যাসেঞ্জারে দিদিমণিদের যা যা কিছু প্রয়োজন। আর পাঁচ জন মা বা মহিলা যেভাবে এগিয়ে যান যেভাবে সারাদিন কাজ করেন বাড়িতে আমিও ঠিক সেভাবেই করি। শুধু আমি একটু তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করি আমার পরিবারের সব কাজটা গুছিয়ে দিয়ে রান্না,আমার বাচ্চাকে পড়িয়ে স্কুল রেডি করে দিয়ে আমি মোটামুটি নটা পাঁচ দশের মধ্যে বেরিয়ে যাই। আমার ইচ্ছা আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি এগিয়ে যেতে পারবো (Struggle Life of Housewife)। সাহসার ইচ্ছা থাকলে মূল্য খেয়ে আপনি পৌঁছতে পারবেন ঠিকই।”

বৃষ্টির এক ক্রেতা তার প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টা খুবই কষ্টের, এতটা শিক্ষিত হওয়ার পরেও হকারি করাটা নিশ্চয়ই মানসিক দিক থেকে খুবই কষ্টের ব্যাপার। আমাদের সমাজে বেকারদের যে অবস্থা তার জ্বলন্ত প্রমাণ বৃষ্টি (Struggle Life of Housewife)। তবুও সেই ব্যাপারটাকে মানিয়ে নিয়ে ও যে লড়াইটা করে যাচ্ছে সংসারের জন্য প্রতিদিন আমরা দেখেছি ও কিভাবে কষ্ট করে ভারী ভারী ব্যাগ নিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করে ,স্কুলে স্কুলেও যায়।”

RELATED Articles