টোটো চালকের মেয়ে (Sumaiya Siddiqua) এবার হতে চলেছে বাংলার ডাক্তার। বাংলার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েটা সমস্ত আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুর্দান্ত রেজাল্ট করে চমকে দিয়েছে সকলকে। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লকের খোদাবান্দপুর গ্রামের সুমাইয়া সিদ্দিকা।
সুমাইয়ার (Sumaiya Siddiqua) বাবা মোবারক হোসেন টোটো চালক। তিনি পড়াশোনা জানেন না। সুমাইয়ার মা সাজেদা বিবি বিড়ি বাঁধেন ও কাপড় সেলাই এর কাজ করেন। চার মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সুমাইয়া তাদের বড় সন্তান। সুমাইয়ার মা পেটের দায়ে বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে একপ্রকার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে শুধু সুমাইয়ার মা নয় বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে সেখানকার বহু মহিলা এই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিড়ি বেঁধে কত টাকাই আর উপার্জন হয় যে ডাক্তার দেখাবেন তারা। তাই নিজের মাকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে সুমাইয়া ঠিক করে নিয়েছিল, তাকে ডাক্তার হতে হবে।
সুমাইয়া (Sumaiya Siddiqua) দেখিয়ে দিয়েছে পরিশ্রম আর মেধার জোরে কোথায় পৌঁছানো যায়। ছোটবেলা থেকেই অভাবের সংসারে কষ্ট করে বড় হয়েছে সুমাইয়া। এত অভাবের মধ্যেও সুমাইয়ার মাধ্যমিকের নম্বর ছিল ৬৬১। মাধ্যমিকে ফারাক্কার ব্লক টপার হয়েছিল সে। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩% নাম্বার নিয়ে পাস করেছিল সে। সুমাইয়ার বরাবরের ইচ্ছে ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার। কিন্তু মেয়ের এই কথা শুনে বাবার কপালে ভাঁজ পড়েছিল।
মেয়েকে (Sumaiya Siddiqua) ডাক্তারি পড়ানোর জন্য এতগুলো টাকা কিভাবে জোগাড় করা হবে সে চিন্তায় কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল মোবারক হোসেনকে। তাই পরিবারের সব থেকে মেধাবী মেয়ের পড়াশোনাও যাতে অর্থের জন্য বন্ধ না হয়ে যায়, তাই সুমাইয়ার কাকা সালেকুর রহমান সহ বাকি পরিবারের মানুষেরা মিলে সুমাইয়ার পাশে এসে দাঁড়ান। তারাই সুমাইয়ার বাবাকে ভরসা দিয়েছিলেন সুমাইয়ার পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ডাক্তারি পড়ার ৮০ শতাংশ টাকাই সুমাইয়ার কাকারা মিলে দিয়েছেন।
সুমাইয়ার কাকার কথায়, “সুমাইয়ার (Sumaiya Siddiqua) মতো মেধাবী মেয়ের পড়াশোনা কিছুতেই বন্ধ করা যাবে না আমরা সবাই ওর পাশে আছি। ও পড়ুক ওকে ডাক্তার হতেই হবে।” সুমাইয়া যখন দেখল তার গোটা পরিবার তার পাশে আছে তখন সে মন দিয়ে পড়াশুনা করতে শুরু করল। তারপর রেজাল্ট বেরোতেই দেখা গেল ৭২০ এর মধ্যে সুমাইয়ার নম্বর ৬৭০। আজ সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় সুমাইয়া ১৪ হাজার ৩২ স্থান অধিকারী। ওবিসি ক্যাটাগরিতে সুমাইয়ার স্থান ৫৯৮১।
মেয়ের সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার। সুমাইয়ার (Sumaiya Siddiqua) বাবা বলেছেন, “আমি লেখাপড়া শিখিনি, সবাই বলত মেয়ে অনেক বড় হবে। আমি টোটো চালিয়ে ওদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। আরো সাফল্যে আমি ভীষণ খুশি আমি চাই ও মানুষের মত মানুষ হয়ে যেন সকলের পাশে থা কে।”






