পুরো দল নিয়েই চাপে ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত (Carles Cuadrat)। ভোঁতা আক্রমণ ভাগ, ঝিমিয়ে পড়া মাঝমাঠের সাথে নড়বড়ে ডিফেন্স চিন্তা বাড়িয়েছে লালুর সমর্থকদেরও। বেঙ্গালুরু ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় কেরালার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না লালচুংনুঙ্গা। এখনও আনফিট নিশু কুমার এবং প্রভাত লাকড়া। মাঠের বাইরে আনোয়ার আলীকে নিয়েও সমস্যায় জর্জরিত ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। তবে আপাতত আনোয়ার আলীর (Anwar Ali) ঘটনায় স্বস্তির খবর এল লাল হলুদ শিবিরে। তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে কেরালার বিপক্ষে।
আপাতত লাল হলুদ জার্সি গায়ে খেলতে পারবেন আনোয়ার আলী, এমনটাই জানিয়েছে প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি। এর ফলে কেরালার বিপক্ষেই ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে আনোয়ার আলীর। বৃহস্পতিবার প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে আনোয়ার আলীর ইস্যুতে পরবর্তী শুনানি হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। শুনানির দিনের আগে পর্যন্ত লাল হলুদের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন আনোয়ার আলী।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গল দল। অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার আলী। এদিন সেন্ট্রাল ডিফেন্সে আনোয়ার আলীকে রেখেই দলের প্র্যাকটিস করান লাল হলুদের হেডস্যার। সেখান থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে? কেরালার বিপক্ষে রবিবার ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম একাদশে দেখা যাবে আনোয়ার আলীকে।
লাল হলুদ কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত দলের ডিফেন্স লাইন সাজাচ্ছেন হেক্টর ইউস্তে এবং আনোয়ার আলীকে মাঝখানে রেখেই। গত বছর মোহনবাগানের স্বপ্নের মরশুমের ডিফেন্সে খেলেছিলেন এই জুটিই। দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন দুজনেই। এমনকি ছিলেন আইএসএল এর সেরা একাদশে। এবার কেরালা ম্যাচ থেকে ইস্টবেঙ্গলেও শুরু হতে চলেছে হেক্টর আনোয়ার যুগ। সেই নিয়ে আশায় ঘুম পাচ্ছেন লাল হলুদ সমর্থকেরা।
আনোয়ার আলীকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকেই একে অপরকে নিয়ে কটাক্ষের মন্তব্য করেছেন রঞ্জিত বাজাজ এবং মোহনবাগান কর্তা দেবাশীষ দত্ত। চলছিল ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’। এমনকি মোহনবাগান ক্লাবের তরফ থেকে রঞ্জিত বাজাজকে যেন চিরদিনের মত ব্যান করা হয় এমন প্রস্তাবের কথাও বলেন দেবাশীষ দত্ত। রঞ্জিত বাজাজ যেন মোহনবাগান ক্লাবে কোনওদিন ঢুকতে না পারেন এবং মোহনবাগানের কোনওরকম অনুষ্ঠানে রঞ্জিত বাজাজ যেন আমন্ত্রিত না থাকেন, সেই বিষয়ে বলতে শোনা গেছিল দেবাশীষ দত্তকে।
এবার আনোয়ার আলী ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গেলে রঞ্জিত বাজাজ বোমা ফাটালেন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে। মোহনবাগান কর্তার উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, “আনোয়ার তার ঘর ছেড়ে গাড়ি চেপে নিজের প্রিয় ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এখন থেকে আনোয়ার ইস্টবেঙ্গলের প্লেয়ার, আর খেলার জন্য প্রস্তুত। আর কোনও নির্বাসন বা জরিমানা আনোয়ার বা ইস্টবেঙ্গল ক্লাব বা দিল্লি এফসির ওপর রইল না। আর বিশেষ বার্তা আমাদের নিন্দুক এবং বিশেষ করে জলহস্তির জন্য। আমায় নির্বাসিত করার বিষয় কী হল? আর কে আসল ডন সেটা বোঝা গেল। সমর্থকদের ধন্যবাদ এই লড়াইয়ে আমার সঙ্গে থাকার জন্য। কিন্তু এই লড়াই দীর্ঘ তাই একসঙ্গে আমাদের থাকতে হবে”।





