স্বপ্নভঙ্গ মোহনবাগানের, প্রথমবারের জন্য ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল নর্থইস্ট ইউনাইটেড!

স্বপ্নের দৌড় থেমে গেল মোহনবাগানের। যুবভারতীতে ডুরান্ড ফাইনালে নর্থইস্টের কাছে হারতে হল সবুজ মেরুন ব্রিগেডকে। ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত কামব্যাক করল নর্থইস্টের ছেলেরা। পরপর দুই ম্যাচ টাই ব্রেকারে জিতে ফাইনালে এসে সেই টাই ব্রেকারেই হারতে হল হোসে মলিনার ছেলেরা। ফাইনালে আর সুপারম্যান হয়ে উঠতে পারলেন না বিশাল কাইথ। হিরো হয়ে গেলেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের গোলকিপার গুরমীত।

ফাইনালে সবুজ মেরুনের প্রাণভোমরা দিমিত্রি পেত্রাতোসকে বাইরে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন কোচ হোসে মলিনা। ক্যাপ্টেন শুভাশীষ বোসের নেতৃত্বে গোলের নীচে বিশাল কাইথকে রেখে মনভীর, আঁপুইয়া, থাপা, আব্দুল সামাদ, লিস্টন কোলাসোকে দিয়ে দল সাজান কোচ। সঙ্গে চার বিদেশী কামিংস,গ্রেগ স্টুয়ার্ট, আলবার্তো এবং অলড্রেড।

খেলার বয়স যখন ৯ মিনিট মোহনবাগানের খেলোয়াড় আব্দুল সামাদকে পেনাল্টি বক্সে জার্সি টেনে ফাউল করে বসেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের আশির আখতার। সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের গোলকিপার গুরমীতকে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন জেসন কামিংস। এরপর গ্রেগ স্টুয়ার্ট এবং মনভীরের কাছে সুযোগ আসলেও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লিস্টন‌ কোলাসো হঠাৎই গতি বাড়িয়ে হানা দেন নর্থইস্টের ডিফেন্সে। অনবদ্য পাস বাড়িয়ে দেন আব্দুল সামাদকে। সেখান থেকে গোল করতে কোনওরকম ভুল করেননি সামাদ। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে মোহনবাগান। নর্থইস্টের হয়ে একমাত্র নজর কাড়েন জিথিন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সামাদের পরিবর্তে মাঠে নামেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। যখন পেত্রাতোসের ভরসায় আরো গোলের স্বপ্ন দেখছিল মোহনবাগান সমর্থকরা তখনই শুরু হয় নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ঝড়। দ্রুত দু গোল দিয়ে ম্যাচ সমতায় ফিরিয়ে আনে তারা। ৫৬ মিনিটের মাথায় জিতিনের অ্যাসিস্টে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে গোল করেন নর্থইস্টের আজারে। তারপর দু’মিনিটের মধ্যেই ফের মোহনবাগানের জালে‌ বল জড়িয়ে দেন নর্থইস্টের গুইয়ের্মো। তারপর আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাই ব্রেকারে।

টাই ব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে গোল‌ করেন জেসন কামিংস, মনভীর এবং পেত্রাতোস। নর্থইস্টের হয়ে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করেন গিইয়ের্মো, জাবাকো, পার্থিব এবং আজারে। মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসো এবং অধিনায়ক শুভাশীষ বোস গোল করতে ব্যর্থ হন। তাদের শট আটকে দেন নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত।

সামনেই শুরু হচ্ছে আইএসএলের লড়াই। এশিয়ার বড় চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে মোহনবাগানের জন্য।ডুরান্ডের হতাশা কাটিয়ে সবুজ মেরুন জনতাকে কেমন ফুটবল উপহার দেয় কামিংস, পেত্রাতোস, আব্দুল সামাদরা, এখন সেটাই দেখার।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles