বহিষ্কার করা হল তৃণমূল নেত্রী চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও চিকিৎসক সন্দীপ ঘোষকে, হঠাৎ কেন এই নির্দেশ?

আর জি করের ঘটনা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। ন্যায় বিচারের দাবী উঠেছে সকল স্তর থেকে। আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার সন্দীপ ঘোষ ও আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তনী তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে নেওয়া হল বড় পদক্ষেপ।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের এক অনুষ্ঠানে এসে আর জি করে পাশ করানো নিয়ে এক মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, “কেউ রাতে কাজ করতে করতে বিছানা নেই বলে মাটিতে শুয়ে পড়ছেন এটা ডাক্তাররা ছাড়া আর কেউ করে না। সেটাও আমি পাশ করার ২৫ বছর পরে। ছাত্রীদের কোলে বসিয়ে পাশ করানোর চল শুরু হয়েছিল। যাঁর আমি তীব্র নিন্দা করি। ঘৃণা করি। আমার ছেলেরা নিন্দা করেছিল বলে তাঁদের কম নম্বর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আজকে প্রথিতযশা চিকিৎসক। কিন্তু সেই কোলে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার চলটা এখানে এসে দাঁড়াবে, যে উৎকোচ নিয়ে পাশ করানো হবে বা কারও থিসিস আটকে রাখা হবে যদি সেই মুখ খুলতে সাহস দেখায়। এটা আমি ভাবতে পারিনি”।

তাঁর এই মন্তব্যকে কুরুচিকর বলে জানানো হয় ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির তরফে। তাদের অভিযোগ, “কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মন্তব্য রুচিবিরুদ্ধ, অসম্মানজনক ও নিন্দনীয়। এই মন্তব্য মহিলা চিকিৎসকদের যোগ্যতা, কঠিন পরিশ্রম ও তাঁদের পেশার দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চিকিৎসকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত কাকলির”। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আইএমএ থেকে বহিষ্কার করার আবেদন জানিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।  

এরই মধ্যে জানা গেল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সন্দীপ ঘোষকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর জি করের প্রাক্তনী সংসদ থেকে এই দুই চিকিৎসককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে খবর। প্রাক্তনী সংসদের জেনারেল বডি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কুরুচিকর মন্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে তাদের তরফে। অন্যদিকে, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর জি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তাঁকে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সরানো হয়েছিল। আর এবার এই দুই চিকিৎসককে বহিষ্কার করা হল আর জি করের প্রাক্তনী সংসদ থেকে।

RELATED Articles