তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হলেই বাড়ির কাছে পোস্টিং, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ফের উঠল দুর্নীতির অভিযোগ

দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবশেষে প্রাথমিক শিক্ষকের পদে নিয়োগ হতে চলেছে ৯৫৩৩ জনের। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলিকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে এই মর্মে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের পর অবশেষে নিয়োগ পাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের উঠল এক অভিযোগ। তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের বাড়ির কাছাকাছিই পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে আর যারা তা নয়, তাদের বাড়ির থেকে অনেক দূরে পোস্টিং হচ্ছে বলে অভিযোগ।

কোথায় ঘটছে এমন ঘটনা?

জলপাইগুড়ি থেকে এল এমন অভিযোগ। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিংয়ে উঠল এমন অভিযোগ। জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি, বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের তরফে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের দাবী, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।  

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল টেট পরীক্ষার। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে পরীক্ষা হয়। পরের বছর ফল প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নিয়োগ নিয়েই চলছিল জটিলতা। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। অবশেষে শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই শুরু হয়েছে প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

জলপাইগুড়ি জেলায় ১৩৯ জন নিয়োগপত্র পাবেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার মেধাতালিকায় নাম থাকা প্রার্থীদের কাউন্সেলিং ছিল জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ভবনে। দূরদূরান্ত থেকে এসেছিলেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে বসে অবশেষে রাত ১টা নাগাদ নিয়োগপত্র হাতে পান তারা।

এর জেরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। ঠাণ্ডার মধ্যে এভাবে বসে থাকা, কেউ কেউ আবার কোলের বাচ্চা নিয়ে এসেছিলেন, ফলে নাজেহাল অবস্থা হয় সকলের। এরই মধ্যে উঠল স্বজনপোষণের অভিযোগ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যে সমস্ত প্রার্থীরা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ, তারা বাড়ির কাছাকাছি জায়গাতেই পোস্টিং পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বাকিদের দেওয়া হচ্ছদ বাড়ি থেকে অনেক দূরে।

এক নবনিযুক্ত শিক্ষক জানান, তিনি বাড়ির কাছের একটি স্কুলে পোস্টিং চেয়েছিলেন। তিনি খবরও পেয়েছিলেন সেখানে পদ ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু কাউন্সেলিং বোর্ড তাঁকে জানায় যে ওই স্কুলে ফাঁকা পদ নেই। তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ময়নাগুড়ির একটি স্কুলে নিয়োগ করা হয়েছে। কাউন্সেলিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য জয়ন্ত করের অভিযোগ, “তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের নাম প্যানেলের নীচের দিকে থাকলেও জলপাইগুড়ি শহরের কাছাকাছি নিয়োগ পাচ্ছেন। অথচ যাঁরা সে দলের ঘনিষ্ঠ নন, বাড়ি থেকে দূরে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা কাউন্সেলিংয়ের সময় পছন্দের জায়গা চাইলে বলা হয়েছে এখানে অন্য লোক আগেই নিয়ে গিয়েছে। এঁরা তো আবার প্রতারণার শিকার হলেন”।

এদিকে এই পক্ষপাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল প্রভাবিত প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি স্বপন বসাক বলেন, “বিজেপির এসব কথার ভিত্তিই নেই। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কাউন্সেলিং হয়েছে। তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। আর আমরাও কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত নই”।

RELATED Articles