সন্দেশখালি যেতে বাধা কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে, কেন্দ্রীয় দলের ৫ সদস্যকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ, কেন এত লুকোছাপা? প্রশ্ন প্রতিনিধিদের

বিগত কয়েকদিন ধরেই জ্বলছে সন্দেশখালি। আজ, রবিবার কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের যাওয়ার কথা ছিল সন্দেশখালিতে। সন্দেশখালির পাত্র পাড়া, মাঝের পাড়া, নস্কর পাড়া ও নতুন পাড়া এলাকায় যাচ্ছিলেন তারা। এই দলে রয়েছেন পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি নরসিমা রেড্ডি-সহ মোট ছ’জন। এছাড়াও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের বেশ কিছু আইনজীবীদের। কিন্তু তাদের আটকায় পুলিশ।

জানা গিয়েছিল, দিল্লির এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম সন্দেশখালি গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। যারা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এর আগে বিরোধী দলগুলিকে সন্দেশখালি ঢোকার থেকে আটকেছে পুলিশ। আর আজ আটকানো হল কেন্দ্রীয় দলকে।

জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি যাওয়ার পথে ভোজেরহাটেই কেন্দ্রের ওই টিমকে আটকায় পুলিশ। তারা যুক্তি দেয় যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, সেই কারণে ওই প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি যেতে পারবে না। কিন্তু প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা দু’জন যাবেন ভেতরে। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।   

পুলিশের বাধা পেয়ে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, “ওইখানে ১৪৪ ধারা জারি। এখানে তো ১৪৪ ধারা নেই। যেতে দিচ্ছেন না। আমাদের বারণ আছে”। এরপর আইনজীবী ও NCW সদস্য চারু আলি খান্না বলেন, “আমরা বললাম দুজন যাব। বাংলার পুলিশ দুই মহিলাকে ভয় পাচ্ছে? কীসের ভয় পাচ্ছে ওরা? আমি কী করব ওইখানে গিয়ে। আমি তো ফিরব না”।

এরপরই কেন্দ্রীয় দলের মহিলাদের আটক করার জন্য প্রিজন ভ্যানে তুলছিল পুলিশ। টেনেহিঁচড়ে তাদের তোলা হচ্ছিল ভ্যানে। সেই সময় পুলিশকে বাধা দেয় সিআরপিএফ জওয়ানরা। এর জেরে দু’পক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়।

কেন্দ্রীয় দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তাদের ১৫১ ধারার কেস দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। তবে কেন্দ্রীয় দলের একজনকে ধরতে পারে নি পুলিশ। তিনি পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে বাসন্তীর দিকে আগেই চলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি আদৌ সন্দেশখালি পৌঁছতে পারেন কী না, সেটাই এখন দেখার। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের প্রশ্ন, কেন তাদের সন্দেশখালি যাওয়া থেকে আটকানো হচ্ছে?  

RELATED Articles