‘কথা দিচ্ছি, আর নয়’, এবার পালা চিরঞ্জিতের! রাজনীতি ছাড়ার পথে বিধায়ক, লোকসভা ভোটের আগে ফের একদফা ঘর ভাঙছে তৃণমূলের

টলিপাড়ার অনেক তারকাই তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন অনেক আগে থেকেই। তাদের মধ্যেই একজন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন হোক বা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন, ঝাঁকে ঝাঁকে তারকা যোগ দিয়েছেন শাসক দলে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে পাত্তাড়ি গোটাতে চাইছেন তারকারা। চিরঞ্জিতের কথা শুনে এমনটাই মনে হল এবার।

২০১১ সালে প্রথমবার ভোটে লড়েছিলেন চিরঞ্জিত। পরপর তিনবার বারাসাত থেকে বিধায়ক হন তিনি। তবে এবার বোধ হয় তৃণমূলের যাত্রা সাঙ্গ করতে চলেছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে এবার দল ছাড়ার কথা বললেন চিরঞ্জিত। ফের একবার বড় ভাঙন হতে চলেছে তৃণমূলের ঘরে।

কী বলেছেন চিরঞ্জিত?

সম্প্রতি এলাকারই এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বারাসাতের সাংসদ চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি বলেন, “যতবার আমি হাতজোড় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলি, আমাকে ছেড়ে দিন, কেন জানি না উনি আমাকে ছাড়েন না। আমি বলেছি, এটা আমার কাজ নয়, আমি এই যুদ্ধের সেপাই নই”।

এদিন সভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে চিরঞ্জিত বলেন, “আপনারাও আমাকে বারবার ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেন। তবে এবার আমি কথা দিচ্ছি, আর নয়, আমি এবার ছাড়ব”।

সাংসদের এমন কথা শুনেই দর্শকাসন থেকে চিৎকার শুরু করেন সমর্থকরা। সেই সময় তিনি বলেন, “আমি আমেরিকায় মেয়ের কাছে গিয়ে বসে থাকব। আসবই না এখানে”। তবে বক্তব্যের শেষে চিরঞ্জিত এও বলেন, “তবে ছাড়তে ইচ্ছে করে না। অন্তরটা রয়ে যায়। তাই আপনাদের কাছে বারবার ছুটে আসি। আর এলাকার উন্নয়ন তো চোখে পড়ছেই”। অর্থাৎ তিনি যে রাজনীতি ছাড়তে চাইছেন, সেটা বেশ স্পষ্ট। তবে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন কী না, তেমন কোনও ইঙ্গিত না মিললেও, সেই জল্পনা বা প্রশ্ন একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়েছেন আরও এক বিধায়ক। বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তৃণমূলের সঙ্গে ২৩-২৪ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। এমনকি, কিছুদিন আগে যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীও জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি সাংসদ থাকতে চান না। সাংসদ দেবেরও তৃণমূল ছাড়ার আভাস এসেছিল। এবার তৃণমূল ছাড়ার কথা শোনা গেল চিরঞ্জিতের মুখে।  

RELATED Articles