সন্দেশলখালি নিয়ে বিতর্কের কোনও অন্ত নেই। এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বঙ্গ রাজনীতিকে। সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। এবার এই ঘটনায় নিজের দলেরই সাংসদকে বার্তা দিলেন সায়নী ঘোষ। সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের সময় নুসরতের উদ্দেশে মন্তব্য করলেন তৃণমূলের যুব সভানেত্রী।
কী বলেছেন সায়নী?
গতকাল, বৃহস্পতিবার পাটুলিতে ব্রিগেড সমাবেশের সমর্থনে একটি দলীয় সভা করে তৃণমূল। সেই সভা থেকেই সায়নী বলেন, “নুসরত জাহানের সন্দেশখালির মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর যাওয়া দরকার ছিল। তবে তিনি যেহেতু নির্বাচিত, তাই নিজের কেন্দ্রে যাবেন কিনা সেটা তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার”।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালির ঘটনার পর থেকেই নুসরত জাহানের সাংসদ হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেখানকার মহিলারা যখন নিজেদের উপর হওয়া শ্লী’ল’তা’হা’নি, নির্যাতনের অভিযোগ তুলছিলেন, সেই সময় অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলেন নুসরত। একজন মহিলা সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও মহিলাদের দুঃখ, যন্ত্রণা বোঝেন নি তিনি।
এই নিয়ে নেটিজেনদের প্রবল তোপের মুখে পড়েন নুসরত। এমনকি, সন্দেশখালির বাসিন্দারাও নিজেদের সাংসদের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন। এমন বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর সন্দেশখালি নিয়ে দু-এক কথা বললেও, তা একেবারেই যথেষ্ট ছিল না। এমনকি, সন্দেশখালি পরিদর্শনেও যান নি নুসরত।
এবার এমন আবহে সায়নীর নুসরতকে নিয়ে এহেন মন্তব্য সামনে এল। এতে শাসক দল যে বেশ অস্বস্তিতে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। লোকসভা নির্বাচনের জন্য এখনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি তৃণমূল। তবে সন্দেশখালি কাণ্ডে নুসরতের এমন মনোভাবের পর তাঁকে আদৌ ফের বসিরহাট থেকে তৃণমূল টিকিট দেবে কী না, তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিন নুসরতকে কটাক্ষ বান শানালেও তৃণমূল সুপ্রিমোর কিন্তু প্রশংসা করতে ভোলেন নি সায়নী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্দেশে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেশখালির মানুষের জন্য অনেক করেছেন। সেখানকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখনও বলছি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজ কেন্দ্রে যাওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় নুসরত জাহানের। তবে এটাও ঠিক উচিত ছিল”।





