আর বেশিদিন নেই লোকসভা নির্বাচনের। এপ্রিল মাস থেকেই শুরু ভোট। বেজে গিয়েছে নির্বাচনী ডঙ্কা। এমন আবহে এবার ভোটের আগে ফের শুরু হয়েছে দলবদলের খেলা। চলছে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠল এক বড় অভিযোগ। দলবদলের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া লোকসভার কাশীপুর হুড়া ব্লকের কলাবনি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযোগ, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্যা আলপনা রায় ও তাঁর পরিবারকে দলবদলের জন্য চাপ দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। অভিযোগ, তৃণমূলে যোগ না দিলে অপহরণ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় তাদের। এই হুমকি পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ আলপনা রায় ও তাঁর স্বামী, এমনটাই খবর। তাদের ফোনও বন্ধ বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সেখানে যান পুরুলিয়ার সাংসদ তথা বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর কথায়, “আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যকে শাসক দল তৃণমূল জোর করে তাঁদের দলে যোগদান করাতে চাইছে। যদি যোগদান না করে তাহলে অপহরণ করে যোগদান করানো হবে বলেও হুমকি দেয়। তাঁদেরকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁরা পালিয়েছেন। রাজ্যে বিজেপি কার্যকর্তারা সুরক্ষিত নন”। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা।
বিজেপি সাংসদের এই অভিযোগ খারিজ করে দেন হুড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রসেনজিৎ মাহাতো। শান্তিরাম মাহাতোর হয়ে তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই মোতাবেক শনিবার তাঁদেরকে যোগদান করানোর কথা ছিল। কিন্তু কলাবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান ও তাঁদের কর্মীরা ওই দম্পতি যাতে তৃণমূলে যোগদান করতে না পারে সেই জন্য চাপ দেন”।
তৃণমূল নেতা আরও বলেন, “গ্রামের মানুষজন সিদ্ধান্ত নেন ওই দম্পতি তৃণমূলে যোগ দেবেন। কারণ গ্রামের মানুষ ওই জনপ্রতিনিধিকে জিতিয়েছেন। সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। এর পর ওই দম্পতি পালিয়ে যায়। আর বিজেপি মোড় ঘোরাতে ভোটের মুখে নাটক করছে। ওই দম্পতির খোঁজ মিললেই সমগ্র বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে”।
এই ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “ওই দম্পতি বিজেপির হেফাজতেই রয়েছে । এই সবই সাংসদ ও বিজেপির নাটক”।






