জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তীর বাবাকে চেনেন? একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত চলচ্চিত্র পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী (Utpolendu Chakroborty)। তিনি শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ফিরেছেন রিজেন্ট পার্কের সরকারি আবাসনে। গত ৫ই এপ্রিল বাড়িতে পড়ে যান বর্ষীয়ান পরিচালক। কোমরের এবং ডান পায়ের হাড় ভাঙে পরিচালকের। এসবের সাথে ছিল বুকে সংক্রমণও। গত ৯ই এপ্রিল এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা চলে তাঁর। পরে শারিরীক অবস্থা স্থিতিশীল হলে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। চিকিৎসক মুকুল ভট্টাচার্য্যের নেতৃত্বে কোমরের অস্ত্রোপচার করা হয় উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর (Utpolendu Chakroborty)।
জানা গেছে, ৭৬ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা এখন সুস্থ। গত শুক্রবার, ৩রা মে হাসপাতাল থেকে ছুটি পান তিনি (Utpalendu Chakroborty)। তার অসুস্থতার সমস্ত খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার। অসুস্থ থাকাকালীন পরিচালকের পাশে থেকেছেন SSKM-এর ডেপুটি সুপার জিয়াউল মুস্তাফা আলকাদরি, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ডেপুটি সুপার বিজয় ভৌমিক।
তবে তার শরীর একেবারেই ভেঙে গিয়েছে। শরীর শুকিয়ে কাঠ। হাঁটাচলা করার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই। গত একমাস ধরে রোগে জীর্ণ হয়ে পড়েছেন পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্টেটের সমস্যা রয়েছেন পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর। আশির দশকে ‘ময়নাতদন্ত’, ‘চোখ’, ‘দেবশিশু’র মতো ছবি পরিচালনা করেছেন বর্ষীয়ান পরিচালক (Utpalendu Chakroborty)। তাঁর সহকারী অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “মানসিক ও স্নায়ুর রোগ ও রয়েছে উৎপলেন্দুর। কিন্তু গতকাল সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে মানিকদার বাড়ির কথাই ভাবছিলেন উৎপলেন্দুবাবু। চোখে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরলেন একটা ছবি জীবনের এই শেষ বেলায় করে যেতে চান।”
পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী (Utpalendu Chakroborty) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তাঁর সহকারী অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় জানান, মেয়েদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই পরিচালকের,তাই তাঁদের খবর দেওয়া অর্থহীন বলে মনে করেছেন তিনি। বাবার অসুস্থতার খবর মিডিয়ার মাধ্যমেই শুনেছেন ঋতাভরী। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, “গত ৩০ বছরে তো উনি আমাদের কোনও খোঁজ নেননি। সবাই আমাদের পিছনে এরকমভাবে পড়েছে কেন জানি না। ওঁর তো আরেকটা বউ-বাচ্চা আছে। তাদের পিছনে পড়ুক। ওঁর তো একটা বিয়ে নয়। দুটো বিয়ে। ওঁর আগের স্ত্রী ইন্দ্রাণী। ছেলে গোগোল। তাঁদের পিছনে পড়ুক না। ৩০ বছরে তো লোকটার মুখই দেখলাম না।”
ঋতাভরী আরও জানান, “২৭ বছর উনি (Utpalendu Chakroborty) আমাদের কোনও দায়িত্ব নেয়নি। আমার বা আমার মায়ের-দিদির। লোকটাকে চোখেই দেখিনি। শুধু কথা শুনেছি। আমার মা আর আমার দিদিকে কী কী সহ্য করতে হয়েছে সেগুলো শুনেছি। আর হালকা কিছু স্মৃতি আছে চার বছর বয়সের। তবে এখন আর কোনও অশ্লীল কথা বলতে চাই না। উনি অসুস্থ। ওঁর নামে খারাপ কিছু বলা, ইমেজ নিয়ে টানাটানি, ঝগড়া কিছুই চাই না আমি আর।”
উল্লেখ্য, নায়িকার শৈশবেই আলাদা হয়ে যান তাঁর বাবা-মা। শতরূপা সান্যালের সঙ্গে উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর ডিভোর্স হয় ২০০০ সালে। মায়ের যন্ত্রণার কথা ভুলে গিয়ে কখনও উৎপলেন্দু চক্রবর্তীকে (Utpolendu Chakroborty) বাবা বলে কাছে টানতে পারবেন না অভিনেত্রী, স্পষ্ট জানিয়েছেন সে কথা।






