‘মেয়েটার কান্নায় আমার মন ভেঙেছে’, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লী’ল’তা’হা’নি’র ঘটনায় সরব মমতা, কিন্তু সন্দেশখালির নির্যাতিতাদের আর্তনাদ কেন পৌঁছল না মুখ্যমন্ত্রীর কানে?

Mamata Banerjee attacked Governor: রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে রাজভবনেই কর্মরত এক মহিলাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্য তোলপাড়। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই ঘটনা নিয়ে আগেই সরব হয়েছেন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যপালকে (Mamata Banerjee attacked Governor)

গতকাল, শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি (Mamata Banerjee attacked Governor)। মমতার দাবী, ওই যুবতীকে দু’বার শ্লীলতাহানি করেছেন রাজ্যপাল। মমতা বলেন, “(যুবতী) বলেছে যে আমি আর কখনও রাজভবনে চাকরি করতে যাব না। ভয় পাচ্ছে। কখন যখন-তখন ডেকে খারাপ ব্যবহার করবে, অসম্মান করবে”।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “গতকালও একটা ছোট্ট মেয়ে রাজভবনে চাকরি করত বিবিএক্সে। তার সঙ্গে কী ব্যবহার করেছেন মাননীয় রাজ্যপাল মহাশয়? আপনি আমায় কালও বলে পাঠিয়েছেন, আমার মন্ত্রী আপনাকে কেন এসব বলেছে। শুনে রাখুন, আমার কাছে একটা নয়, ১,০০০ টা ঘটনা এসেছে। কিন্তু আমি কোনওদিন কোনও কথা বলিনি। কিন্তু কাল মেয়েটির কান্না আমার হৃদয় (ভেঙে গিয়েছে)” (Mamata Banerjee attacked Governor)

এখানেই শেষ নয়, এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “সন্দেশখালি নিয়ে বলার আগে বলুন যে রাজ্যপাল কেন তাঁর কাজের মেয়ে (রাজ্যপালের অধীনে কাজ করা মেয়েকে), তাঁর ঘরে (পড়ুন বাসভবনে) কাজ করে বলে….। পূর্ব মেদিনীপুরের একটি মেয়েকে একবার নয়, পরপর দু’বার মলেস্টেশন করেছেন (Mamata Banerjee attacked Governor)। আমি তো তার কান্না দেখলাম। আমার কাছে তার ভিডিও এসেছে। আমি পুরো মন দিয়ে দেখেছি”।

তবে এবার এখান থেকেই উঠছে বিস্তর প্রশ্ন। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তুললেন, তাহলে এই নিয়ে তাঁর দিকেও একটা আঙুল যে উঠবে, সেটাই স্বাভাবিক। এই কিছুমাস আগের কথাই, সন্দেশখালির মহিলারা নিজেদের উপর হওয়া নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, শারীরিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সেখানকার তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। সেই ঘটনায় গোটা রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এখনও সেই ঘটনার রেশ কাটে নি।

সেই ঘটনায় বিরোধীরা সরব হলেও, তারা সন্দেশখালি গেলেও দেখা মেলেনি মুখ্যমন্ত্রীর। সন্দেশখালির মহিলারা বারবার চেয়েছিলেন যাতে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে তাদের কথা শোনেন। কিন্তু সেই সময় সেই নির্যাতিতাদের কান্না, আর্তনাদ কানে পৌঁছয় নি রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর। তখন তাঁর ‘হৃদয়’ও ভাঙে নি। বরং এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানকে তখন সমর্থন করে গিয়েছেন তিনি। শাহজাহান তাঁর দলেরই নেতা বলেই কী এমন দ্বিচারিতা মমতার? এখন সেই প্রশ্ন তো উঠবেই। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন আক্রমণ করছেন (Mamata Banerjee attacked Governor), তাহলে সন্দেশখালির ঘটনায় কেন চুপ ছিলেন তিনি। অভিযুক্ত তাঁরই দলের প্রভাবশালী নেতা বলে? আঙুল তুলছে আমজনতা!

আরও অন্যান্য খবর