করোনার পর এবার নয়া ভাইরাসের প্রবেশ ভারতে! আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নাইল ভাইরাস, বিকল হতে পারে স্নায়ুতন্ত্র বিকল, খুব সাবধান

নতুন সংক্রমণে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। ওয়েস্ট নাইল জ্বরে (West Nile Virus) সতর্কবার্তা দিল কেরল সরকার। নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। ‌ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ দশজন। ‌ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন কিউলেক্স প্রজাতির মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। কেরালের তিন জেলা মালাপ্পুরম, কোঝিকোড় ও থ্রিশূরে মূলত নাইল ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে জ্বরের প্রকোপ দেখা গিয়েছে। নাইল জ্বরের বারবারন্ত দেখে কেরলের স্বাস্থ্যদপ্তর সর্তকতা জারি করেছে।

নাইল ভাইরাস (West Nile Virus) নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ‌কেরল রাজ্যের স্বাস্থমন্ত্রী বীনা জর্জ নাইল জ্বরের (West Nile Virus) প্রসঙ্গে বলেছেন, “মশাবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে। সংক্রমণ যাতে আর না বাড়ে তার জন্য মশা নিয়ন্ত্রণে বিবিধ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।” কেরলের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীর বিশেষ দল মৃতের বাড়ির আশেপাশে মশার বংশ বৃদ্ধি রোধে কাজ করছে। ‌ ওই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ‌সতর্কবার্তা জারি করে নর্দমা এবং জল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস (West Nile Virus) কী? 

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের (West Nile Virus) পুরো নাম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বা ডব্লিউএনভি। ওয়েস্ট নাইল আরএনএ ভাইরাস কিউলেক্স মশা ভাইরাস ছড়ায়। কিউলেক্স মশা মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। পাখির দেহ থেকে মশার মাধ্যমে এই ভাইরাস ঢুকে মানুষের শরীরে। জানা গেছে, আফ্রিকা, ইউরোপ, নর্থ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় নাইল রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

এই ভাইরাস (West Nile Virus) চরিত্রগত দিক থেকে অনেকটাই ফ্ল্যাভিভিরিড পরিবারের জাপানিজ এনসেফেলাইটিসের মতো। ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে পরিযায়ী পাখিরা এই ভাইরাস বহন করে থাকে। তারপরে পাখির শরীর থেকে মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষ ও অন্যান্য পশু পাখিদের শরীরে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। শরীরের ভাইরাস ঢোকার এক সপ্তাহের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিতে থাকে।

নাইল ভাইরাসে (West Nile Virus) আক্রান্তের উপসর্গ কী কী?

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মারাত্মক কোনও লক্ষ্মণ নেই। তবে এই ভাইরাসের (West Nile Virus) ফলে জ্বর আসে, মাথা যন্ত্রণা হয়, এমনকি গায়ে র‌্যাশ বেরোতেও দেখা যায়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির গ্ল্যান্ডের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণ গুলি কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। প্রাথমিকভাবে উপসর্গ শুরু হয় জ্বর আসা দিয়ে।

কখন বিপদ সবথেকে বেশি?

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস (West Nile Virus) যদি কোন ব্যক্তির মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় তবে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। নাইন ভাইরাসের সংক্রমনে সেই সময় মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। এমনকি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে সুষুম্নাকাণ্ডে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্র বিকল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রবল। ‌ সাধারণত বয়স্ক শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এই রোগের (West Nile Virus) চিকিৎসা কী?

মানুষের দেহে নাইল ভাইরাসের (West Nile Virus) প্রকোপ দেখা দিলেও, এর ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনো পর্যন্ত বেরোয়নি। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্র যাতে পুরোপুরি বিকল না হয়ে পড়ে তার জন্য নিউরো-ইনভেসিভ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। স্নায়ুতন্ত্র যাতে বিকল না হয়ে পড়ে তার জন্য লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে রোগীর রোগের মোকাবিলা করা হচ্ছে।

RELATED Articles