একের পর এক ভয়ঙ্কর অপরাধ, নৃশংসভাবে খু’ন একাধিককে, অপরাধের বহরে অপরাধীকে ৪৫০ বছরের সাজা শোনাল আদালত

পৃথিবীর বুকে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর অপরাধী। যাকে ৪৫০ বছর জেলে থাকার সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীর নাম নিকো জেনকিনস (Nico Jenkins)। আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে কুখ্যাত নৃশংস সিরিয়াল কিলার তিনি। এই অপরাধীকে দেখলে হুইলচেয়ারে থাকা মানুষও দৌড়ে পালাবে। পুলিশের রেকর্ডে এতটাই নৃশংস অপরাধী তিনি। পরিবারের খারাপ শিক্ষা অর্জন মানুষকে কিভাবে কতটা অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে তার প্রমাণ এই অপরাধী নিকো জেনকিনস (Nico Jenkins)। নিকো নিজেকে প্রাচীন মিশরের অন্ধকারে দেবতা বলে দাবি করেন। পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর নিকো জানান, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। দেবতা অপোসিস আমার মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করছিল। তার নির্দেশনায় আমি মানুষগুলোকে মেরেছি।”

অনেকেই তাকে মানসিক রোগী বলে মনে করেন। তবে মানসিক হাসপাতাল থেকে মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট দেখে জানানো হয় সে সম্পূর্ণ সুস্থ। তবে কেন একজন মানুষ এমন আচরণ করল? কেন নিকোকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিশংস অপরাধী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ‌মাথা ন্যাড়া, সারা গায়ে ট্যাটু, মুখে রয়েছে ট্যাটু। গালের একপাশে ধারালো কাটার দাগ, বডি বিল্ডারের মত পেটাই চেহারা- নিকো‌ জেনকিনসকে (Nico Jenkins) দেখলে মনে হবে ডব্লিউ ডব্লিউ ই-এর কোনো ফাইটার। এই অপরাধীকে দেখলেই কেঁপে ওঠে সারা আমেরিকা। নিকোর বয়েস এখন ৩৭ বছর। ১৯৮৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আমেরিকার কলোরাডোতে জন্ম হয় নিকোর।

মাত্র ৭ বছর বয়সে বাবার আলমারি থেকে পিস্তল চুরি করে স্কুলের সবাইকে ভয় দেখাতো। মাত্র ১৩ বছর বয়সে একজন ব্যক্তির ওপর ছুরি আঘাত করে। ওই ব্যক্তিকে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। নিকো জেনকিনসের (Nico Jenkins) অপরাধের সূত্রপাত পরিবার থেকেই। তার বাবা-মা, তিন বোন, কাকা-কাকিমা সবাই অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত ছিল। তাই পরিবারের কারো কাছ থেকেই সঠিক শিক্ষা পাননি তিনি। পনেরো বছর বয়স থেকেই অন্ধকার রাস্তায় ছুরি দেখিয়ে লোকজনের থেকে টাকা গয়না হাতাতে শুরু করে নিকো। তারপর একদিন গাড়ি চুরি করে বসে সে। সেই অপরাধে জেলে যেতে হয় নিকোকে।‌

২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সালে অবধি কৈশোর থেকে যুবক হওয়া পর্যন্ত নিকো (Nico Jenkins) ছিল জেলে। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আরো মায়াদয়াহীন হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার এগারো দিনের মধ্যেই সে শুরু করে ভয়ংকর হত্যালীলা। পর সে সঙ্গে নেয় তার তিন বোনকেও। জুয়ান উরবি পেনা ও জর্জ সি রুইজ নামক দুজন নির্দোষ সাধারণ মানুষ প্রথম শিকার হয় তার। ২০১৩ সালের ১১ই আগস্টে তাদের মাথায় গুলি করে তাদের থেকে টাকা পয়সা সমস্ত কিছু নিয়ে পালায় নিকো। পরের দিন ভোরবেলা পুলিশ পার্কের সামনে সাদা একটি গাড়িতে এই দুই ব্যক্তির মৃতদেহ পায়। নিকোর পরের শিকার ছিল ওর বন্ধু কার্টিস ব্রার্ডফোর্ড। এর সাথে নিকোর পরিচয় হয় জেলে থাকাকালীন। ১৮ই আগস্ট কার্টিসকে খুন করে নিকো (Nico Jenkins)।

১৭ই আগস্টে নিকোর (Nico Jenkins) সাথে একটি ছবি তুলে সেটা ফেসবুকে আপলোড করেছিল কার্টিস। নিকোর (Nico Jenkins) তারপরের শিকার ছিল অ্যন্দ্রিয়া ক্রুগার নামক এক নির্দোষ মহিলা। কাজ থেকে ফেরার সময় অ্যন্দ্রিয়ার গাড়িকে আটকে তাকে হত্যা করে। ৩০ আগস্ট নিকোকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩ রা সেপ্টেম্বর পুলিশের ৮ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর নিকো স্বীকার করে প্রাচীন মিশরের সর্পদেবতা অপোসিসকে খুশি করতেই খুনগুলো করেছে নিকো। যাঁদের মেরেছে তাদের কোন দোষ ছিল না। যদি দেবতা আবার নির্দেশ দেয় আবারো খুন করবে নিকো। ২০১৭ সালে বিচার শেষে নিকোকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। মানসিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে মৃত্যুদণ্ড আটকে রেখেছে নিকোর ডাক্তাররা। নিকো (Nico Jenkins) যদি বেঁচে যায়, তাই আদালত সাড়ে চারশো বছরের সাজা শুনিয়েছে তাকে। যাতে আর কোনদিন জেলের বাইরে পা রাখতে না পারে সে।

আরও অন্যান্য খবর