আশ্রয় দিয়েছিলেন শিষ্যাকে, গুরুমা-গুরুদেবকে অচৈতন্য করে সর্বস্ব লুট করে পালালেন তরুণী

অনেকেই ভক্তির পথে জীবন দর্শন করতে যান। ‌গুরুদেব গুরুমাকে রাখেন পিতৃতুল্য, মাতৃতুল্যস্থানে। ‌ যার কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়া হয় তাকেই সাধারণত গুরুমা বা গুরুদেব বলা হয়। আর যিনি দীক্ষা নেন তাকে বলা হয় শিষ্যা। তাদেরকে ভগবানের আসনে বসানো হয়। তবে সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে তাতে আপনি রীতিমতো অবাক হবেন। এই ঘটনায় গুরুদেব ও গুরুমাকে অপমান তো করা হয়েছেই। সাথে তাদেরকে লুট করেছে এক শিষ্যা‌।

গুরুদেব ও গুরু মাকে ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করে দেওয়ার পর চুরি করে চম্পট দিয়েছেন শিষ্যা। শনিবার দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বড়গাছি এলাকায়। অচৈতন্য অবস্থায় ওই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অচৈতন্য হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এই ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে পূর্বস্থলী থানায়। পরিবারের তরফে থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই শিষ্যার‌ খোঁজ শুরু করেছে। অভিযুক্তকে খুঁজতে চলছে তল্লাশি।

শনিবার পূর্বস্থলীর বড়গাছি এলাকার বাসিন্দা মিলন দেবনাথ জানিয়েছেন, সুভাষ‌ দেবনাথ ও মায়ারানী দেবনাথের বাড়িতে আসেন সুভাষবাবুর আগে থেকেই পরিচিত এক শিষ্যা। ওই শিষ্যা সারাদিন তাদের বাড়িতেই ছিলেন। গুরুমা গুরুদেবের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়াও করেছেন। শনিবার বাবা মাকে নিয়ে মালদহ যাওয়ার কথা ছিল ওই শিষ্যার। শনিবার ভোর তিনটে বেজে গেল তার বাবা-মা উঠছে না দেখেই মেজ ভাই ডাকতে যান। তখন ডাকতে গিয়েই দেখেন বৃদ্ধ মা বাবা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।

মেজো ছেলেই প্রথম দেখেন বাবা মা অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছেন। নেই মোবাইল, আলমারির লকারও খোলা এমন অবস্থায় দেখতে পান বৃদ্ধ বাবা-মাকে। ‌ তাতেই বুঝতে আর দেরী হয়নি। বাড়ির কিছুটা দূরেই মিলন বাবুর দোকান। তার দোকানে সিসিটিভি রয়েছে। সেই সিসিটিভি ক্যামেরাতে দেখা যায় শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওই শিষ্যা চলে গিয়েছেন। তবে কি কি জিনিস তুমি চুরি করে চম্পট হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ পুরো বিষয়টি জানিয়ে পূর্বস্থলী থানার দ্বারস্থ হয়েছেন সুভাষ দেবনাথের পরিবার। ‌

বৃদ্ধ বয়সে অচৈতন্য হওয়ার ওষুধ বেশ গাঢ়ভাবে কাজ করেছে। বৃদ্ধ সুভাষ বাবু ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে কালনা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কয়েক ঘন্টা কেটে গেলেও এখনো জ্ঞান ফেরেনি বৃদ্ধ দম্পতির। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পূর্ব পরিচিত কেউ যেকোনো সময় বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব লুট করে চলে যেতে পারে। এমনকি খুনও হয়ে যেতে পারেন বাড়িতে বসেই। তবে ওই বৃদ্ধ দম্পতি বা গুরুদেব গুরুমা বুঝতে পারেননি শিষ্যাকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে এভাবে ঠকতে হবে। আন্দাজ করতে পারেননি পূর্ব পরিচিত এক শিষ্যা এই কাজ করবেন।

RELATED Articles