মনের অদম্য ইচ্ছে থাকলে কোন প্রতিকূলতাই আপনাকে আটকাতে পারবেনা। ঠিক যেমন টিঙ্কেশ কৌশিক (Tinkesh Kaushik)। আপনার জেদের বসেই আপনি কাজের সফল হতে পারবেন। আমরা অনেক সময় দেখেছি পরিবারের নানা সমস্যা, আর্থিক অনটন সবকিছু মোকাবিলা করে পড়াশোনা করেছেন নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন এক ধাপ এক ধাপ করে। কখনও পাড়া-প্রতিবেশীরা সঙ্গ দিয়েছে আবার কখনো তারা দূর ছাই করেছে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এমন একটি জিনিস যা মোকাবিলা করার জন্য ও আপনার অদম্য মনের জোর ছাড়া আর কোন কিছু ওপরেই আপনি ভরসা করতে পারবেন না। হয়তো আপনি এই পরিবারের সম্মতি পাবেন না, তবে ইচ্ছা থাকলে সফল আপনি হবেনই। কঠোর পরিশ্রম এই আপনার সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি হবে। মনের জোরের কাছে কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও টিকতে পারবে না। আজ এমনই একজনের কথা জানবেন।
১৯৯৩ সালের ২১ শে জুন হরিয়ানার ঝাজ্জার জেলায় জন্ম টিঙ্কেশের (Tinkesh Kaushik)। টিঙ্কেশের জীবন বাকি সাধারণ পাঁচটা শিশুর মতই ছিল। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শিখছিলেও ছোট্ট ছেলেটি। লেখাপড়া করার সাথে সাথে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে ভালবাসতো টিঙ্কেশ(Tinkesh Kaushik)। মাঠে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। টিঙ্কেশের (Tinkesh Kaushik) বাবা-মা ছেলেকে মানুষ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। ছেলেকে একটা সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য প্রতিদিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হত টিঙ্কেশের বাবা-মাকে। তবে কপাল সায় দিল না, টিঙ্কেশের পরিবারে এল কষ্ট, দুঃখ।
অন্যান্য দিনের মতোই খেলাতে মত্ত ছিল টিঙ্কেশ (Tinkesh Kaushik)। দিন ২০০২ সালের ডিসেম্বর, হঠাৎই ঘুড়ি ওড়ানোর সময় উচ্চ ভোল্টেজের তারের বিদ্যুৎ শক পান টিঙ্কেশ। বৈদ্যুতিক শকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি সারা শরীর পুড়ে যায় টিঙ্কেশের। তড়িঘড়ি ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে বাবা মা। দুদিন পর জ্ঞান ফেরে ছেলের। ডাক্তাররা টিঙ্কেশের (Tinkesh Kaushik) জীবন বাঁচাতে দুটি পা একটি হাত কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। কয়েক মাস শারীরিক মানসিক লড়াই চলে টিঙ্কেশের। যখন একপ্রকার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তখন পাড়া প্রতিবেশীদের নানা গঞ্জনা শুনতে হয়েছিল। তাকে অনেকেই বলেছিল বেঁচে থাকার চেয়ে তার মরে যাওয়াই ভালো ছিল। নিজের মন শক্ত করতে থাকে টিঙ্কেশ।
নিজেকে কখনো সহানুভূতির নজরে দেখেননি। মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। টিঙ্কেশের (Tinkesh Kaushik) হৃদয় যে শক্তিশালী সেকথা মনে করেই সাহস পেত। পাড়া-প্রতিবেশীর নানান কথা শোনার পরেও তার বাবা-মা তাকে সবকিছুতে সমর্থন করেছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে শুরু করে টিঙ্কেশ। শুরু করে স্কুলে যেতে। সেভাবেই পড়াশোনা শেষ করে। নিজেকে কখনো কারো থেকে কম মনে করেননি। এবার বিশ্ব দরবারে তা প্রমাণ করে দিলেন তিনি কারোর থেকে কম নন। সে সময় জীবন চালানো কষ্টের ছিল, তবে প্রতিদিন কাজ করেছেন। সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টাও ছিল আপ্রাণ। কৃত্রিম পা হাত নিয়ে তিনি জিমে যেতে শুরু করেন। শুরু করেন দৌড়াতে। লোকেদের ঠাট্টা তামাশা উপেক্ষা করে জীবনের অনুপ্রেরণা খোঁজার চেষ্টা চালাতে থাকেন। এরপর গোয়া গিয়ে ফিটনেস কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই ছেলেটি আজ টিঙ্কেশ অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন নামে তার নিজস্ব সংস্থা চালাচ্ছে।
২০২৪ সালের ১১ই মে টিঙ্কেশ কৌশিক (Tinkesh Kaushik) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭,৫৯৮ ফুট উপরে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর জন্য বিশ্বের প্রথম ট্রিপল অ্যাম্পুটি হয়ে উঠেছেন তিনি। টিঙ্কেশের (Tinkesh Kaushik) জন্য এখন যেকোনো কৃতিত্বই কম পড়বে। টিঙ্কেশ (Tinkesh Kaushik) হার মানতে শেখেননি।
টিঙ্কেশ কৌশিক (Tinkesh Kaushik) এ প্রসঙ্গে জানান, “এই মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, এটি কেবল অনুভব করা যায়। আমি এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে ট্রেকিং এর চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেছি। ৯০% লোকোমোটর অক্ষমতা সহ এই কৃতিত্ব অর্জন করলাম, সেটাও প্রথম ট্রিপল অ্যাম্পুটি হিসাবে। এটা আমার জন্য খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। আমি নিজের জন্য এটা করেছি। যারা আমাকে এখানে পৌঁছানোর জন্য সমর্থন করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। প্রথম দিনে এই ট্রেকিংটা আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই আমি এটা সম্পূর্ণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। এর মধ্যে আমি বেশ কয়েকবার অসুস্থ বোধ করেছিলাম। আমাকেও পাহাড়ের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, কিন্তু আমার মানসিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করে আমি এই যাত্রা সম্পূর্ণ করেছি।”






