প্রতিকূলতার চোখে চোখ রেখেই এল জয়! তীব্র জীবনসংগ্রামকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনটি সোনা জিতলেন বঙ্গতনয়া

Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage: মরুশহর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান যোগাসন স্পোর্টস কাপে সাফল্যের সঙ্গে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এনেছেন হাওড়ার মেয়ে সুস্মিতা দেবনাথ (রাই)। ট্র্যাডিশনাল, রিদমিক এবং আর্টিস্টিক বিভাগে সোনা জয় করে ফিরে এসেছেন সুস্মিতা। এর আগেও তিনি রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। এবার আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পেয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন সুস্মিতা (Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage)

সুস্মিতার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অবিরাম পরিশ্রম এবং অনুশীলন। মাত্র দেড় বছর বয়সে মায়ের কাছে খেলার ছলে যোগ শিখেছিলেন। শৈশব থেকে দশ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি জেলা স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন (Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage)। এরপর নিজের চেষ্টায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন। অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে থেকেও তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। তার পরিবার এক চিলতে ভাড়া বাড়িতে থেকেই শুরু করেছিল এই সংগ্রাম। কয়েক বছর আগেও সঠিক অনুশীলনের জায়গা ছিল না তার কাছে।

‘খেলো ইন্ডিয়া’ পদক জয়ের পর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত ছিল। আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা এবং ঋণ নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। এত কষ্টের পর এই সাফল্য লাভ তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। সুস্মিতা আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান। তার মা মামণি দেবনাথ সংসার চালানোর জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের চাকরি নিয়েছিলেন। এর ফলে স্বামী এবং কন্যাসন্তান নিয়ে তাকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। তারপরেও থেমে যাননি। লেখাপড়া শেষ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েছেন। মায়ের লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সফলতার দিকে এগিয়েছেন সুস্মিতা। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন (Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage)

যোগাসনকে সামনে রেখে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চান সুস্মিতা। পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি যোগাসনের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছেন (Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage)। সোনার মেয়ে সুস্মিতা জানান, এই সাফল্যের পিছনে তার প্রাক্তন এবং বর্তমান প্রশিক্ষকের অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনেরও অবদান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রেরণা পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে।

আনন্দের মাঝেই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের খরচ নিয়ে চিন্তিত সুস্মিতা। পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব নয়, তাই সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন (Girl from Bengal Won Three Golds at International Stage)। এই প্রসঙ্গে সুস্মিতার মা মামণি দেবনাথ জানান, “আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে পক্ষে অত্যন্ত কঠিন এই স্বপ্নপূরণ। ছেলে-মেয়েদের প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাদের স্বপ্ন পূরণ করা শক্ত। সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে চলেছি৷ কত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব, জানি না। প্রতিভা থাকা সত্বেও হয়তো মাঝ পথেই বহু প্রতিভা থমকে পড়ে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে”।

RELATED Articles