‘১৫০ গ্রাম সিমেন পাওয়া গিয়েছে…’, আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় ওঠা নানান তত্ত্বের বিশ্লেষণ পুলিশ কমিশনারের

আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গোটা বাংলাজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে। বিক্ষোভ, আন্দোলন করছেন সমাজের নানান স্তরের মানুষ। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন মহিলারা। সকলের একটাই দাবী, আসল দোষীর শাস্তি চাই। তবে এসবের মধ্যেই আবার আর জি করের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ধরণের গুজবও ছড়াচ্ছে। এবার সেই নিয়ে সচেতন করলেন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল।

আজ, শুক্রবার আর জি করের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের গুজব ঘোরাফেরা করছে, যার কোনও ভিত্তি নেই। আর গুজবের ওপর ভিত্তি করেই অনেক বিশেষজ্ঞরা কথা বলছেন, সেগুলোরও কোনও ভিত্তি নেই। যেমন অনেক বিশেষজ্ঞকেই বলতে শোনা যাচ্ছে, এটা গণধর্ষণের ঘটনা। কিন্তু এই ধরনের গুজবের ওপর ভিত্তি করে কোনও মন্তব্য করা উচিত হয়”।

এদিনের এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুজবের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন তিনি। বিনীত গোয়েল বলেন, “এই ঘটনাটি নিয়ে অনেক রকমের গুজব ছড়াচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে এটা গণধর্ষণের ঘটনা, কখনও বলা হচ্ছে ১৫০ গ্রাম সিমেন পাওয়া গিয়েছে, কখনও আবার মহাপাত্র পদবিধারীকে বিশেষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পদবির সঙ্গে জুড়ে দোষী হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ধরনের গুজব নিয়ে বিশ্লেষণও হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলছে”।

তাঁর সংযোজন, “এই ঘটনায় অনেকেই কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এখন এই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এই ঘটনা এখন তদন্ত সাপেক্ষ। বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত করছেন আধিকারিকরা”।

বিনীত গোয়েলের কথায়, পুলিশ কখনই এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে নি। তাঁর কথায়, “অনেক সময় বলা হচ্ছে পুলিশ নাকি বলেছে একটা আত্মহত্যার ঘটনা। কিন্তু এটাও সম্পূর্ণ ভুল। কারণ পুলিশ এটাকে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলেছে। সাপে কাটা হোক কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু- এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও পুলিশ প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলেই মামলা রুজু করে। এটাই আইন। ভারতে যে কোনও রাজ্যেই এটা হয়”।

সিপি এও বলেন, “আমাদের প্রমাণ দরকার। প্রমাণ ছাড়া কাউকে আমরা ধরতে পারি না। আমাদের কাউকে বাঁচানোর নেই। প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছি। দয়া করে গুজব ছড়াবেন না”। তিনি জানান, “আমাদের কাছে যা যা তথ্য ছিল, তা সবই সিবিআই-কে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অফিসাররাও নতুন তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করছে”।

এখানেই শেষ নয়, ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে আর জি করে যে হামলা হয়, সেই ঘটনার ব্যর্থতাও এদিন স্বীকার করে নেন বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, “আর জি করে সেদিন রাতে ওত লোক ঢুকে পড়বে, আমরা আন্দাজ করতে পারিনি”।

তাঁর কথায়, নেতাহীন একটা ভিড় সেদিন ঢুকে পড়েছিল। আর জি করে তাণ্ডবের রাতে গোটাটাই গোয়েন্দা ব্যর্থতা। স্বীকার করলেন সিপি। সঙ্গে বললেন, “আরজিকরে কত ফোর্স সেদিন রাখা উচিত ছিল, স্থির করতে পারিনি আমরা”। তিনি জানান, আর জি করে ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  

RELATED Articles