জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনসূয়া মজুমদার (Anusuya Majumder) বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা (tollywood) সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হতেন সকল দর্শক। ১৯৫৩ সালের ৯ ই ডিসেম্বর ধানবাদে তার জন্ম হয়, ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের সাথে কলকাতায় আসেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময় সেখানকার বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করা থেকেই অভিনয় হাতে খড়ি তার।
কলকাতার লরেটো কলেজ থেকে পড়াশোনা করার সময় অন্তর্বর্তী কলেজ প্রতিযোগিতায় অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। একসময় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ পদের চাকরি করার পাশাপাশি থিয়েটার করতেন তিনি, একইসাথে সময় বের করে শিখতেন নাচ ও গান। এরপর একদিন হঠাৎ করেই বড়পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান অনসূয়া।
তার প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায়নি, এরপর নাট্যগোষ্ঠীর চেনামুখে অভিনয় করবার সময় পরিচালক মৃণাল সেনের চোখে পড়ে যান তিনি। মৃণাল সেনের হাত ধরেই মহাপৃথিবী ছবিতে কাজ করেন অভিনেত্রী। এটিই ছিল তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। এরপর সিটি অফ জয় , তাহাদের কথা, পাষণ্ড পন্ডিত, কালরাত্রি, সম্প্রদান, ভালো থেকোর মত একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি।
সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কালপুরুষ’ ধারাবাহিকে মাধবীলতার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর টেলিফিল্মে কাজ করেন। তারপর যখন মেগা ধারাবাহিক শুরু হয় তখন মেগা ধারাবাহিকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে, তার অভিনীত প্রথম মেগা ধারাবাহিক হলো শ্যাওলা। পরবর্তী অন্দরমহল , মোহর ইচ্ছেনদী, জল থৈ থৈ ভালোবাসা, এক্কাদোক্কা, দেশের মাটি , তুমি রবে নীরবে জল নূপুর, বউ কথা কও ইত্যাদি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন তিনি।
২০০৬ সালে শুধুমাত্র অভিনয় করবেন বলেই চাকরি ছেড়ে দেন অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সব সময় পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। বিয়ের আগে মা এবং বিয়ের পর স্বামী, শাশুড়ি,ছেলে সকলেই তার অভিনয়কে সাপোর্ট করেছেন। তার স্বামী সুব্রত মজুমদার থিয়েটারের মানুষ, অভিনয় করতে করতেই ভালোবেসে বিয়ে হয় তাদের। অনসূয়া দেবীকে অভিনয় করতে ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয় কেমন হচ্ছে, কোথায় ঠিক হচ্ছে, কোথায় ভুল হচ্ছে সেই সংক্রান্ত বিষয়েও গাইড করতেন সুব্রত বাবু।
৭১ বছর বয়সে এসেও দুই পর্দাতে দাপিয়ে কাজ করছেন অনসূয়া মজুমদার। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে তার। সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি মাটি, গোত্র, মুখার্জীদার বউ, অপরাজিত, বৌদি ক্যান্টিন, দিলখুশ ইত্যাদি ছবিতে দেখা যায় তাকে।





