আর জি করের মুখ্যমন্ত্রী, গুণ্ডা সর্দার উনি! হাসপাতালে চলত মদের ফোয়ারা, সন্দীপ ঘোষের ‘আসল রূপ’ সামনে আনলেন প্রাক্তন কর্মী

রবিবাসরীয় সকালেই আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়ি হানা দেয় সিবিআই। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তো না জড়িয়েছিলই তাঁর, এবার আর জি করে দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়িয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। এরই মধ্যে সন্দীপ ঘোষের এক ঘৃণ্য রূপ সামনে আনলেন আর জি করের প্রাক্তন কর্মী।

গত কয়েকদিন ধরেই প্রতিদিনই সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এরই মধ্যে আজ, রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে হাজির হয় সিবিআই। এবার আর জি করের মর্গে দীর্ঘদিন কাজ করা ক্লার্ক তারক চট্টোপাধ্যায় সন্দীপ ঘোষ সম্পর্কে অনেক তথ্য দিলেন।

তারক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা চোখের সামনে দেখেছি। আর সন্দীপ ঘোষকে গুণ্ডা সর্দার বললেও ভুল হবে না। মর্গ থেকে ফার্মেসি- সব জায়গায় চলত দুর্নীতি। ভাল ডাক্তার হলেও, ওঁর পছন্দ না হলে বদলি করে দিতেন”।

এই কর্মীর দাবী, হাসপাতালের গেট থেকে মর্গ পর্যন্ত নিজের এক সেটআপ ছিল সন্দীপের। তাঁর কথা অনুযায়ীই সবটা চলত। ওই প্রাক্তন কর্মীর কথায়, হাবেভাবে যেন মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন সন্দীপ। তিনি জানান, “ওঁর লোকজন বলতে শুরু করেছিল, উনি আরজি করের মুখ্যমন্ত্রী। চারস্তরীয় নিরাপত্তা পেরিয়ে যেতে হত সন্দীপ ঘোষের কাছে”।

শুধুমাত্র পুলিশই নয়, নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত বাউন্সারও রেখেছিলেন সন্দীপ ঘোষ, এমনটাই জানান ওই প্রাক্তন কর্মী। বলেন, “উনি যখন ঢুকতেন, তখন আগে ৩-৪ জন থাকত। তারা বলত, সরে যান সরে যান… । ঠিক যেন মুখ্যমন্ত্রী ঢুকছে”।

এখানেই শেষ নয়, তারক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, সন্দীপ ঘোষ মদ খাইয়ে কিছু লোককে নিজের আয়ত্তে রেখেছিলেন।  মর্গের মধ্যে যেখানে মৃতের আত্মীয়তদের বসার জায়গা, সেই রেস্টরুমটাকে পানশালা বানিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে দাবী তাঁর। তিনি বলেন, “কাছের ছাত্রদের মদ খাওয়াতেন সন্দীপ ঘোষ। বাইরের লোক এলে থাকা জন্য গেস্ট হাউস ছিল হাসপাতালে। সে গেস্ট হাউসকে বার বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মদের আসর বসত। ৭-৮ জনের বাহিনী ছিল। তাদের বলা হয়েছিল, ‘আমার সঙ্গে থাকবি। পড়াশোনা করতে হবে না। পাশ করাটা আমি দেখে নেব”।

আরও পড়ুনঃ বাংলার ১০ জন তৃণমূল সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, নারী নির্যাতনের মামলা, আর জি করের ঘটনার মধ্যেই ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য

বলে রাখি, শুধুমাত্র এই প্রাক্তন কর্মীই নন, সন্দীপের ঘোষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন আর জি করের ডেপুটি সুপার আখতার আলিও। আর জি করের দুর্নীতিতে সন্দীপ ঘোষের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আর্জিতেই এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছে হাইকোর্ট।

RELATED Articles