আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে একের পর এক রহস্য যেন চলছেই। কোনও ভাবেই কাটছে না ধোঁয়াশা। এফআইআরে দেরি, এফআইআরের বয়ান নিয়ে প্রশ্ন, নির্যাতিতার মা-বাবাকে ফোন করা প্রশ্ন তো ছিলই, এবার পুলিশে খবর দেওয়া নিয়েও উঠল প্রশ্ন। ঘটনার দিন তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর জানার ২৫ মিনিট বাদে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। কিন্তু কেন? উঠছে নানান প্রশ্ন!
সুপ্রিম কোর্টে যে টাইমলাইন পেশ করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট সকালে সাড়ে ৯টায় প্রথম তরুণী চিকিৎসকের দেহ দেখতে পান প্রথম বর্ষের এক পিজিটি। জানা গিয়েছে, টালা থানায় এমএসভিপি এফআইআরের যে আর্জি জানান, তাতে লেখা দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র এমএসভিপিকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের কথা জানান ৯টা ৪৫ মিনিটে। অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর খবর পায় ৯টা ৪৫ এ।
এদিকে, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশকে হাসপাতালের তরফে মৃত্যু খবর জানানো হয়েছে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। পুলিশে খবর দিতে ২৫ মিনিট দেরি হল কেন? আর জি করেই পুলিশ আউটপোস্ট থাকে। তা সত্ত্বেও পুলিশে খবর দিতে কেন ২৫ মিনিট দেরি? উঠছে প্রশ্ন।
ডিসি সেন্ট্রাল জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে কর্ডন করা হয়। তিনি বলেছিলেন, “আর জি করের আউট পোস্ট খবর পায় মোটামুটি ১০টা থেকে ১০টা ১০ নাগাদ। তারপরই দ্রুত আমরা ওখানে চলে য়াই। সাড়ে দশটার মধ্যে আমাদের কর্ডন প্লেস হয়ে গিয়েছিল”।
এরপর কী আর কেউ সেখানে ঢুকেছিল? ডিসি সেন্ট্রালের কথায়, এরপর আর কেউ যায়নি সেখানে। ওখানে আর কারোর ঢোকা সম্ভব ছিল না। তিনি জানান, সেই সময় সেখানে তাদেরই লোকজন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, এই ঘটনায় প্রমাণ নষ্ট করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে, পুলিশ আউটপোস্ট থেকে ঘটনাস্থল অর্থাৎ সেমিনার রুমে যেতে ২ মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ পুলিশ যদি ১০টা ১০ মিনিটে মৃত্যুর খবর পায়, তাহলে সেমিনার রুমে পৌঁছতে ১০টা ১২ মিনিট লাগবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হচ্ছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যুর খবর জানল, তাহলে পুলিশে কেন ১০টা ১০ মিনিটে খবর? এতক্ষণ কী জন্য অপেক্ষা করা হল? এই সময়ের মধ্যে কাকে কাকে ফোন করা হয়েছিল? এই ২৫ মিনিটে কী কোনও প্রমাণ লোপাট করে ফেলা হয়েছে? উঠছে এহেন নানান প্রশ্ন!
এই বিষয়ে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলছেন, “পুলিশ যতক্ষণে জেনেছে তার আগে সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকেরা, উকিলেরা জেনে গিয়েছে। তারা কিছুক্ষণের মধ্যে হাজিরও হয়ে গিয়েছে। এই ২৫ মিনিট সময় তো প্রমাণ লোপাটের জন্য যথেষ্ট সময়। আমরা প্রথম দিন থেকে তাই বলছি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে। যাতে অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থা কোনও কূলকিনারা না পায়”।






