আর জি কর (R.G.Kar hospital) কান্ডের জেরে গোটা বাংলা হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ মুখর। কলকাতার রাজপথ থেকে শহরতলী গ্রামের অলি-গলি আছড়ে পড়েছে প্রতিবাদের ঝড়। মিছিল, স্লোগানে মুখরিত কলকাতার রাজপথ। যেখানে নারী সুরক্ষার বিষয়টিতে আরও জোর দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ সহ বিশিষ্টজনরা রাস্তায় হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়াজ তুলছেন এই আবহের মধ্যেই সামনে এল হুগলীর চুঁচুড়ার এক লজ্জাজনক ঘটনা।
আর.জি.করের ঘটনার আবহেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা। এই মুহূর্তে আর জি করের নানা প্রসঙ্গে শাসকদল যখন কোনঠাসা সেই শাসকদলের বিধায়েকর নামেই উঠল অভিযোগের আঙুল। তৃণমূলের চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে নারীদের অসন্মান, অবমাননা সহ কুপ্রস্তাব দেওয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন পুরসভার এক মহিলা কর্মী। তিনি তৃণমূলেরই কর্মী বলেই এলাকায় পরিচিত।
ওই অভিযোগকারিণী মহিলা জানিয়েছেন তিনি পুরসভার কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের বিধায়ক দীর্ঘদিন তার বাড়িতে মহিলাকে কাজ করিয়েছেন। বিধায়কের ‘ব্যক্তিগত’ কাজও করানো হত তাকে দিয়ে। মহিলার অভিযোগ সম্প্রতি সেই বিধায়ক তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। রাজি না হওয়ায় ‘চোর’ অপবাদ দেওয়া হয় তাকে। মহিলা আরও জানিয়েছেন, “বিধায়ক মহিলাদের আপত্তিকর মেসেজ করেন। ভিডিও কল করেন। তার ব্যবহার ভালো নয়। এমনকী আমার কাছে সেই সব প্রমাণও রয়েছে। যথাসময়ে সেইগুলো সবার সামনে আনব”।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও জানান, “আমি পুরসভার কর্মী। তবে বিধায়ক আমাকে সেখানে রাখেননি। নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখানে বিধায়কের ব্যক্তিগত কাজ ও কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর কাজ করতাম। বাড়ির কাজও করেছি”। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ‘চোর’ অপবাদ পাওয়ার পর তিনি বিধায়কের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসেন। সবকিছুর জন্য বিধায়ককেই দায়ী করেছেন ওই মহিলা।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই চুঁচুড়ার বেশ কিছু জায়গায় বিধায়কের নামে ধিক্কার জানিয়ে পোস্টার পড়তে থাকে। পোস্টারে বড় বড় করে লেখা ‘চুঁচুড়ার বিধায়ক দূর হটো, চুঁচুড়ার নারীদের সম্মান বাঁচাও’। হুগলীর প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন তৃণমূলের বিধায়ককে।
লকেট লিখেছেন, “পুরসভার কর্মীকে বাড়িতে রেখে কাজ করাতেন চুঁচুড়া বিধানসভার মাননীয় বিধায়ক অসিতবাবু। বাড়িতেই পুরসভার রেজিষ্টার সই, বাড়িতেই মাইনে। এমন আর কত মহিলার সঙ্গে আপনি সেফ সাইড করতেন বিধায়কবাবু? আপনি আবার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে। হাস্যকর ! রক্ষক যে নিজেই ধর্ষক এটাই তৃণমূলের মেরুদণ্ড”। বিধায়কের পক্ষথেকে এখনও কোনওরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এবিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি।





