‘কাজ করব কিন্তু খাবার খাব না…’, দাবী পূরণ করে নি সরকার, ডেডলাইন পার হতেই আমরণ অনশনে জুনিয়র চিকিৎসকরা

২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওাহ্যেছিল রাজ্য সরকারকে। এই সময়ের মধ্যে তাদের দসাবি পূরণ না করলে আমরণ অনশনে যাবেন তারা। সেই সময়সীমা পার হতেই নিজেদের দাবীতে অনড় থাকলেন তারা। আমরণ অনশন শুরু করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যেবেলা ধর্মতলায় সাংবাদিক বৈঠক করে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার ৫৮ দিন পর অবশেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা এও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি রাজ্য সরকার তাদের ১০ দফা দাবী পূরণ না করে তাহলে তারা আমরণ অনশনের দিকেই এগোবেন। তেমনটাই করলেন তারা।

এই মুহূর্তে ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। পুলিশ মঞ্চ বাঁধতে বাধা দেয়। নিজেরাই অবস্থান মঞ্চ তৈরি করে নেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আজ, শনিবার সকালে  লালবাজারের তরফে জুনিয়র চিকিৎসকদের ইমেল করে এই অবস্থান তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। পুলিশের দাবী, পুজোর সময় এমন অবস্থানের কারণে যান চলাচলের সমস্যা হবে।

তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, পুলিশ মিথ্যাচার করছে। তারা গতকাল রাত থেকে আজ গোটা দিন অবস্থান করেছেন ডোরিনা ক্রসিংয়ে। কিন্তু যান চলাচলে কোনও অসুবিধা হয়নি। তারা এও জানান, গতকাল পুলিশ তাদের এক সতীর্থকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেয়, লাথি মারে। সেই ঘটনায় কোনও ক্ষমা চাওয়া হয়নি পুলিশের তরফে।

জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান, তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। পুলিশ যতক্ষণ না নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছে, তাদের বিক্ষোভ চলবে তারা এও জানান, প্রথম দফায় ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক অনশন করছেন। তবে এই ৬ জনের মধ্যে আর জি করের কোনও চিকিৎসক নেই। অনশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ধর্না মঞ্চে সিসিটিভি বসাবেন তারা, এমনটাও জানান জুনিয়র চিকিৎসকরা।  

তবে এই অনশন করতে গিয়ে যদি কোনও চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সেই দায় কার? জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, তাদের দাবীগুলি অত্যন্ত ন্যায্য দাবী। সরকার যদি সেই দাবী মেনে নেয়, তাহলে এই দিন আসবে না। তাদের কথায়, তারা দুটি শর্তেই এই ইনশন তুলবেন। এক, তাদের সমস্ত দাবী মেনে নেওয়া হলে আর দুই, তাদের মৃত্যু হলে। তারা এও জানান, এই অনশন মঞ্চে যদি কারোর কিছু হয়, তাহলে সেই দায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।  

RELATED Articles