‘যাদের মাথায় চুল কম, তাদের বুদ্ধি বেশি’, ‘টেকো’দের জন্য বিশেষ উদ্যোগ তৃণমূল বিধায়কের, সংবর্ধনা-উপহারে ভরিয়ে দিলেন শওকত মোল্লা

স্থূলকায় চেহারা হোক বা চাপা গায়ের রঙ, নানান দৈহিক কারণে নানান সময় সমাজে অপদস্ত হতে হয় অনেককেই। আবার যাদের মাথায় টাক পড়ে গিয়েছে, তাদেরও নানান টিপ্পনীর মুখে পড়তে হয় বৈ কী! মাথায় চুল না থাকার কারণে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগেন। লোকসমাজে বেরোতে লজ্জা পান অনেকেই। এবার এদের জন্যই বড় উদ্যোগ নিলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা।

দুর্গাপুজো সবে মিটেছে। এমন সময় ছবি, সেলফি তোলার ধূম থাকে খুব বেশি। কিন্তু যাদের মাথায় টাক রয়েছে, তারা যেন অনেক সময়ই এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। তাদের মনোবল বাড়াতেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিলেন তৃণমূল বিধায়ক। বিজয়া দশমীর প্রাক্কালে তাদের জানালেন সংবর্ধনা। সঙ্গে তাদের হাতে তুলে দিলেন উপহারও।

ক্যানিংয়ের জীবনতলা বাজারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিধায়ক শওকত মোল্লার উদ্যোগে। সেই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয় কালিকাপুর ও মঠেরদিঘি পঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক টেকো ব্যক্তিদের। এদিন তাদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাদের হাতে বিধায়ক তুলে দেন নতুন পাঞ্জাবী ও গোলাপ ফুল। এই বিষয়ে শওকত মোল্লা বলেন, “ক্যানিং পূর্বের দুটি অঞ্চলে প্রচুর টাক মাথার মানুষ রয়েছে। যাঁদের মাথায় চুল কম, তাঁদের বুদ্ধিও বেশি। তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।

তাঁর কথায়, “সবই ঈশ্বরের দান। এনিয়ে হীনমন্যতা বা মন খারাপের কোনও দরকার নেই। যাঁদের মাথায় চুল নেই তাদের সংবর্ধনা দেব আমি। আপাতত দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু হল এই কর্মসূচি। আগামী দিনে গোটা বিধানসভা এলাকা জুড়ে এই কর্মসূচি চলবে”।

তৃণমূল বিধায়ক আরও জানান, “আমরা এটা একটা নতুনত্ব করলাম। এখনও পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। এটা নতুন ভাবনা”। যাঁরা বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী-গুণী মানুষ ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ রয়েছেন, তাদের সংবর্ধনা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য বলে জানান শওকত মোল্লা। তিনি বলেন, নানান বড় বড় পদাধিকারী আছেন যাদের মাথায় চুল নেই। সেই সমস্ত ব্যক্তিদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে এই সংবর্ধনার জন্য। ।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডে গান গেয়ে প্রতিবাদ করার জের, দিতে হল বড় মাশুল, চাকরি থেকে ছাঁটাই হোমগার্ড

তৃণমূলের বিধায়কের এই উদ্যোগে বেশ খুশি মাথায় চুল না থাকা ব্যক্তিরা। এমন এক ব্যক্তি বলেন, “অনেক রকম তেল, ওষুধ মেখেছি। কিছুতেই কাজ হয়নি। ৪০ বছরেই সব চুল উঠে গিয়েছে। আমাদের মনোবল বাড়াতে বিধায়ক যে উদ্যোগ নিলেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ”।

আরও অন্যান্য খবর