মুঠো মুঠো খাচ্ছেন প্যান ডি, শেলকল ৫০০? সুস্থ হওয়ার বদলে শরীরে বিষ ঢোকাচ্ছেন না তো? গুণমান পরীক্ষায় ডাহা ‘ফেল’ ৭১টি ওষুধ

শরীর খারাপের দাওয়াই তো ওষুধই। শরীর খারাপ হলে ওষুধ খাওয়াই ভালো বলে আমরা সকলেই জানি। কিন্তু কোন ওষুধ কেমন, তা গুণমানের দিক থেকে সঠিক কী না, তা কী আমরা ভাবি। দেখা গেল, শরীর সুস্থ করার জন্য যে ওষুধ মুঠো মুঠো খাওয়া হচ্ছে, সেই ওষুধই শরীরে আরও বেশি বিষ ঢোকাচ্ছে। সামনে এল এমনই কিছু ওষুধের নাম যার মধ্যে প্যান ডি ও শেলকল ৫০০-এর নাম বিশেষ উল্লেখ্য।

সেন্ট্রাল ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটির তরফে ফের নিম্নমানের ওষুধের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে ফাফ সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো একাধিক ওষুধ রয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যালকেম ল্যাবরেটরিস, হিন্দুস্তান অ্যান্টিবায়োটিক্স লিমিটেড, পিওর অ্যান্ড কিওর হেলথকেয়ারে মতো নামী কোম্পানির একাধিক ওষুধ কোয়ালিটি পরীক্ষায় পাশ করতে পারে নি।

সেই থেকেই এবার প্রশ্ন উঠছে, ‘জাল’ ওষুধ কি আদৌও ওই কোম্পানিগুলিই বানাচ্ছে? অনেকের মতেই, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়ো সংস্থা খুলে জাল ওষুধ তৈরি করছে। আর সেই ওষুধই নামী কোম্পানির নামে বাজারে বিকোচ্ছে। সেন্ট্রাল ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটির তরফে এমন ৭১টি ওষুধের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যা গুণমান পরীক্ষায় ফেল করেছে। নানান জাল ওষুধের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

সেই নিম্নমানের ওষুধগুলি হলঃ

নিউরোটেম এনটি, সেফুরক্সিম অ্যাক্সেটিল ট্যাবলেট আইপি ৫০০ মিলিগ্রাম, লোপেরামাইড হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট আইপি, ফ্লক্সেজ ওজেড, উইন্টেল ৪০ ট্যাবলেট, মক্সিকা ২৫০, ফ্রুসেমাইড ইনজেকশন আইপি ২০ মিলিগ্রাম, ক্লোক্সাসিলিন সোডিয়াম ক্যাপসুল আইপি ২৫০ মিলিগ্রাম, ফ্লুরোমেথোলোন আই ড্রপ আইপি, পানলিব ৪০ ট্যাবলেট, বি সিডাল ৬২৫, ট্রিপসিন, ব্রোমেলাইন এবং রুটোসাইড ট্রাইহাইড্রেট ট্যাবলেট, সি মন্ট এলসি কিড ৬০ মিলি, যোগরাজ গুগ্গুলু ট্যাবলেট, টেলমিসার্টন ট্যাব আইপি ৪০ মিলিগ্রাম, প্যান্টোপ্রাজল ইনজেকশন বিপি ৪০ মিলিগ্রাম, গ্লিমেপিরাইড ট্যাব আইপি। 

যে ওষুধগুলিকে জাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি হল- তামসুলোসিন এবং ডুটাস্টারাইড ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি ৩ ট্যাবলেট আইপি, প্যান ডি, ন্যান্ড্রোলোন ডেকানোয়াট ইনজেকশন আইপি ২৫ এমজি/এমএল।

আরও পড়ুনঃ একরত্তি মেয়েকে খুন বাবার, শিশুকন্যার নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতেই সামনে এল বড় সত্যি!

ওষুধের গুণমানে ব্যর্থতা রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এভাবেই বাজারে জাল ওষুধ বিক্রি হতে থাকলে, শুধুমাত্র যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে তা নয়, এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে।

RELATED Articles