একরত্তি মেয়েকে খুন বাবার, শিশুকন্যার নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতেই সামনে এল বড় সত্যি!

অচৈতন্য অবস্থাতেই শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ব্যক্তি নিজেই। কিন্তু চিকিৎসকরা ওই একরত্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে চলেই যাচ্ছিলেন বাবা। সেই সময় বাধা দেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। পুলিশ এনে চেপে ধরতেই সামনে আসে আসল সত্যি।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে। জানা গিয়েছে, মৃত শিশুকন্যার বাবা একজন ব্যবসায়ী। শিশুকন্যার বয়স পাঁচ বছর। মেয়েকে নিজের হাতে খুন করেছেন বাবা, এমনটাই জানা গিয়েছে তদন্তে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়ীর বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ হয়ে গিয়েছিল। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। নেশায় আসক্তও হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।  

জানা গিয়েছে, শিশুকন্যা ছাড়াও ওই ব্যবসায়ীর আরও দুই ছেলে রয়েছে। ব্যক্তির বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, মেয়েকে নিয়ে নিজের অফিস রুমে ঢুকলেন ওই ব্যক্তি আর বেরিয়ে আসেন মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে। পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সত্যিটা স্বীকার করেন ওই ব্যক্তি। জানান তিনি নিজেই খুন করেছেন তাঁর মেয়েকে।

ওই ব্যক্তির কথা অনুযায়ী, তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি যদি মারা যান তাহলে তাঁর মেয়েকে কেউ ঠিকভাবে দেখাশোনা করবে না। সেই ভয় থেকেই মেয়ের গলায় দড়ি দিয়ে খুন করেন তিনি। এরপর নিজেও আত্মঘাতী হতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে ওই অফিস রুমে তাঁর বড় ছেলে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপরই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ততক্ষণে আর প্রাণ অবশিষ্ট ছিল না ওই ছোট্ট শরীরে।   

আরও পড়ুনঃ ইচ্ছা থাকলেও হল না, বঙ্গ সফরে এসেও কেন আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করলেন না অমিত শাহ, জানা গেল আসল কারণ!

এই ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নিজের মেয়েকে খুন করার ঘটনা বাবা স্বীকার করেছেন। ধৃতও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই মুহুর্তে ঘরে বড় ছেলে দেখে ফেলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। খুনের আগে মেয়ে বাবার অফিস ঘরে ঢুকেছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও দড়ি সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে”।

আরও অন্যান্য খবর