‘পুলিশকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই…’, মমতার পুলিশকে ক্লিনচিট দিলেন হিরণ, আঙুল কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে! উপনির্বাচনের আগেই দল বদলাচ্ছেন বিজেপি নেতা?

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই বছর খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়ে বিধায়ক হন তিনি। এরপর জল গড়িয়েছে অনেকদূর। বারবার রাজ্য সরকার তো বটেই বিশেষ করে তৃণমূল তারকা সাংসদ দেবকে নিয়ে বিস্ফোরক সব দাবী করেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এমনকি, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল কেন্দ্রে দেবের বিপরীতে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। তবে জিততে পারেননি। তবে এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকেই ক্লিনচিট দিওলেন হিরণ। ফলে সকলের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, ফের দলবদল করছেন নাকি তিনি?

আগামী ১৩ নভেম্বর রাজ্যের ৬ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এর মধ্যে রয়েছে মেদিনীপুর কেন্দ্রও। সেখানকার বিজেপি প্রার্থী শুভজিৎ রায়ের সমর্থনে মেদিনীপুর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে লালদীঘি এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আর এই প্রচারে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকে দোষ না দেওয়ার মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিকেও আঙুল তুলেছেন হিরণ।   

বাংলায় ভোটে হিংসা, ভোট লুঠ হলেও কেন্দ্র কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করলেন বিজেপি বিধায়ক। এই ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন হিরণ। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার যদি সুব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা ৬টা আসনের সবকটাতেই জিতব। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সেই জন্য আজ ভোট হচ্ছে না এখানে। মানুষের ভোট লুঠ করছে তৃণমূল। পুলিশের চাকরি তো কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ নেই”।

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেগে তিনি এও বলেন, “আমার ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী দাঁড়িয়ে থেকে তৃণমূলের ভোট করিয়েছে। সিআরপিএফ, সিআইএসএফ আমাদের ভোট করতে দেয়নি। তখনও আপনি বলবেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ দায়ী”?

আরও পড়ুনঃ ‘ওয়ার্নিং দিয়ে গেলাম, এরপর কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না…’, হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসকদের হুমকি তৃণমূল নেতাদের

উল্লেখ্য, উপনির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রচারে ব্যাপক জোর দিচ্ছে শাসক-বিরোধী উভয়ই। আর জি কর কাণ্ড আবহে একদিকে যেমন নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া তৃণমূল, অন্যদিকে তেমনই এই ইস্যুকেই কেন্দ্র করে ঘাসফুল শিবিরকে চাপে রাখতে চাইছে বিজেপি। এরই মধ্যে হিরণের এই মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে বেশ শোরগোল ফেলেছে বৈ কী!

আরও অন্যান্য খবর