লক্ষ লক্ষ টাকার গরমিল ট্যাব দুর্নীতিতে, ‘তরুণের স্বপ্ন’ চুরি করছে কারা? এবার মিলল বড় তথ্য

রাজ্যজুড়ে ট্যাব দুর্নীতি। নানান স্কুলেই ধরা পড়েছে একই ছবি। ট্যাবের টাকা পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না গিয়ে চলে গিয়েছে অন্য অ্যাকাউন্টে। এভাবে ‘তরুণের স্বপ্ন’ চুরি করছে কে বা কারা, তা নিয়ে এবার বড় এক তথ্য সামনে এল।

করোনা পরিস্থিতির সময় যাতে উঁচু শ্রেণীর পড়ুয়াদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে, সেই কারণে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য টাকা দেওয়ার প্রকল্প শুরু করে রাজ্য সরকার। সেই প্রকল্পের নাম ‘তরুণের স্বপ্ন’। কিন্তু এই বছর সেই ট্যাবের টাকা বণ্টনে ধরা পড়ল বড় দুর্নীতি। শ’য়ে শ’য়ে পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছেই না ট্যাবের টাকা।   

পড়ুয়াদের টাকা চলে যাচ্ছে অন্য কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে পূর্ব বর্ধমান, মালদা থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ থেকে পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে কলকাতা, রাজ্যের সর্বত্র চিত্রটা একইরকমের। চারদিকে এই জালিয়াতি ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, গত জুলাই-আগস্ট মাসে ট্যাবের টাকার নাম এন্ট্রির সময় পোর্টাল হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এর জেরেই নানান স্কুলে এমন ঘটনা ঘটছে।  

জেলার ২৫-৩০টি স্কুলে সাড়ে তিনশো পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে বলে খবর। এই গরমিলের পরিমাণ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। সাগর, গোসাবা, কুলপি, কুলতলি, মগরাহাট, সোনারপুর, বারুইপুর, বজবজ ও মহেশতলার একাধিক স্কুল রয়েছে এই গরমিল হওয়ার তালিকায়। অভিযোগ, সেই টাকা গিয়েছে বিহারের কিষাণগঞ্জ ও বৈশালী জেলার ভগবানপুরের নানান অ্যাকাউন্টে।

শুধু তাই-ই নয়, জেলার নানান স্কুলের প্রায় চারশো পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা এখনও তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে নি। সেদিকেও দুর্নীতি হয়েছে কী না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা পরিদর্শকের সঙ্গে জেলাশাসক বৈঠক করছেন বলে খবর। শুধু জেলা নয়, কলকাতার নানান স্কুলেও ট্যাব দুর্নীতির খবর মিলেছে। ট্যাব দুর্নীতিতে অবশ্য গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এই দুর্নীতিতে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ ‘রাশিয়া থেকে আনা বিষ দিয়ে আমাকে আর শুভেন্দুকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে রাজ্য’, বিস্ফোরক দাবী অর্জুনের

আবার জেলার ১৭টি স্কুলের প্রায় চার হাজার পড়ুয়া দু’বার করে ট্যাবের টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পড়ুয়া ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। এবার সেই টাকা কীভাবে উদ্ধার করা যায়, তাও খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

RELATED Articles