করোনা মানুষের জাতি-ধর্ম-বর্ন দেখে থাবা বসায় না। কিন্তু মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়েও মানুষের মনে জাতপাত, ধর্ম বিভেদ যেন মিটতে চায় না।এই সাম্প্রদায়িকতার বিষ যেন মানুষের রক্তে সেই আদিমকাল থেকেই মিশে আছে। তার ভয়াবহতা করোনার থেকেও মারাত্মক। এইবার সেই বিষের কোপে সন্তানহারা হলেন এক মা।
প্রসূতির পরিচয় জেনে তাঁকে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ উঠল ঝাড়খণ্ডের এমজিএম হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মহিলার নাম রিজওয়ানা খাতুন। ৩০ বছরের রিজওয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে একটি চিঠি লিখে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। এরপর আচমকাই তাঁর শরীর থেকে রক্তপাত হতে শুরু হলে তিনি এমজিএম হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁর নাম পরিচয় জানার পর তাঁর সাথে অভব্য আচরণ শুরু করে হাসপাতালের কর্মীরা। তার ধর্ম পরিচয় জানার পর তাকে হেনস্থা করা হয় এবং তিনি করোনা সংক্রমন ছড়াচ্ছেন এমন অপবাদ দেওয়া হয়। তার শরীর থেকে তখন ক্রমাগত রক্ত ঝড়ে পড়ছিল। কিন্তু সেই অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে তাঁর রক্ত পরিষ্কার করতে বলা হয়। তার শরীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি সেই কাজ করতে পারেননি। তাদের কথা না শোনার অপরাধে এরপর তাঁকে জুতো দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর একটি নার্সিং হোমে যান তিনি, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার গর্ভের নবজাতক মারা গেছে।
মুখ্য সচিব সুখদেব সিংহ বলেছেন, অভিযোগের তদন্ত করছেন তাঁরা। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের এসএসপি। এই তদন্তে হয়তো শাস্তি হবে কিন্তু ধর্মের গোঁড়ামি মিটবে কি?





