জাতির উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়ে দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের মেয়াদ ৩রা মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু করোনা সংক্রমণ যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে করেই দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সত্যিই ৩রা মে লকডাউন শেষ হবে তো! সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কি এর ফলে কমিয়ে ফেলা যাবে?
এবার সেই সংশয় থেকেই তেলেঙ্গানায় লকডাউনের মেয়াদ ৭ই মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দিল চন্দ্রশেখর রাও সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, “৫ মে পরিস্থিতি বিচার করে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”। অর্থাৎ ৭ই মে যে লকডাউন উঠে যাবে তাও স্পষ্ট করেননি তিনি। একই পথে হাঁটতে পারে কর্ণাটকও। লকডাউনের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ব্যাপারে আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে বি এস ইয়েদুরাপ্পা সরকার।
দক্ষিণের এই দুই রাজ্যের পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে লকডাউনের মেয়াদ ১৪ এপ্রিল থেকে ফের বাড়ানোর ব্যাপারে তেলেঙ্গানাই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল। সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর। তার পর তাঁকে অনুসরণ করে পাঞ্জাব ও ওড়িশার মতো রাজ্য।
অনেকের মতে, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী সরকার আগে থেকে উদ্যোগ না নিয়ে রাজ্য স্তর থেকে সেই দাবি তুলে আনছে। এও হতে পারে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চন্দ্রশেখর। আর কর্নাটকের সরকার তো বিজেপিরই। রাজ্য স্তর থেকে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি উঠে এলে, এটা মনে হবে না যে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।
এই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, লকডাউনের মেয়াদে সমস্ত ফুড ডেলিভারি অ্যাপের পরিষেবাও এবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হল। তাঁর কথায়, তেলেঙ্গানায় এখনও পর্যন্ত ৮৫৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন একুশ জন। তবে অনেক সংক্রমণ রুখে দেওয়ার কাজ অনেক রাজ্যের তুলনায় বেশ ভাল হচ্ছে। চারটি জেলায় সংক্রমণ নতুন করে ছড়ায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনই সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা নেই। বরং আরও সতর্ক হতে হবে সবাইকে।
অন্যদিকে কর্নাটক সরকার জানিয়েছে যে, আজ অর্থাৎ সোমবার থেকে কিছু পরিষেবায় ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা রাজ্যে শুরু করা হবে না। পুরো লকডাউন চলবে কাল পর্যন্ত। বিশেষ কিছু পরিষেবাকে ছাড়ের আওতায় আনা হবে পরশু থেকে।





