শিক্ষকদের এক পড়ুয়ার জীবনে দ্বিতীয় অভিভাবকের স্থান দেওয়া হয়। কারণ মা-বাবার পরই সঠিক শিক্ষাটা এক পড়ুয়া শিক্ষকের থেকেই পায়। ফলে শিক্ষকদের অনেক বেশি বিচক্ষন থাকা প্রয়োজন। কারণ তারাই তো ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। কিন্তু শিক্ষকই যদি নিজেই অসাধু হন, তাহলে?
শিক্ষকদের থেকেই তো শিক্ষা পায় আগামী প্রজন্ম। ফলে শিক্ষকদের আচার-আচরণ সঠিক হওয়া খুব দরকার। কিন্তুএবার স্কুলের মধ্যেই শিক্ষকদের যে ব্যবহার দেখা গেল, তাতে তারা ভবিষ্যতের জন্য কী উদাহরণ রাখলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন। স্কুলের মধ্যেই একে অপরকে অশ্লীল গালিগালাজ, মারামারি করতে দেখা গেল শিক্ষকদের। সেই ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বামনগোলা জগদলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরেই সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। এরপর টিচার ইন চার্জের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়ে শুরু হয় জোরদার আলোচনা। অনেকেই চাইছিলেন সেই দায়িত্ব নিতে।
শেষমেশ তপন মণ্ডল নামের এক শিক্ষককে দেওয়া হয় টিচার ইন চার্জের দায়িত্ব। তবে তাতে সমস্যা মেটেনি। তাঁকে অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না। সেই কারণে ডিআইয়ের নির্দেশে টিচার ইন চার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয় শিক্ষক জিতেন্দ্র বর্মণকে। এরপর শুরু হয় আরও অশান্তি। নিত্যদিন স্কুলে নানান ঝগড়া-ঝামেলা লেগেই থাকত।
এরই মধ্যে স্কুলে আবার মিড ডে মিল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিভাবকরা স্কুলের বিরুদ্ধে জেলাশাসককে অভিযোগ জমা দেন। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুলের ভিতরের পরিস্থিতি। স্কুলের ভিতরেই একে অপরের সঙ্গে বচসায় জড়ান জীবন বিজ্ঞান ও ওয়ার্ক এডুকেশনের শিক্ষক।
শুধুমাত্র বচসাই নয়, একে অপরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে গিয়ে হাতাহাতিও হয় তাদের মধ্যে। সেই ঘটনার ভিডিওই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিও নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সকলেরই প্রশ্ন, শিক্ষকরাই যদি স্কুলের মধ্যে এমন আচরণ করেন, তাহলে পড়ুয়ারা এর থেকে কী শিক্ষা পাবে!





