পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেয়। কোনও অসুবিধায় পড়লে মানুষ আগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু সেই পুলিশই যদি জনসাধারণের জন্য ত্রাস হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে? এবার পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতাতেই। জানা গিয়েছে, এক তরুণী চারু মার্কেট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি দাবী করেছিলেন, প্রায় মাসখানেক আগে একটি ফোন এসেছিল তাঁর কাছে। ফোনে দাবী করা হয়েছিল, দিল্লি পুলিশের তরফে ফোন করা হচ্ছে। তরুণী জানান, তাঁকে ওই পুলিশের তরফে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি অভিযোগ রয়েছে।
প্রথমে এই কথায় বিশ্বাস করেন নি তরুণী। তব পরে অভিযোগের তথ্য শুনে ভয় পেয়ে যান তিনি। ওই পুলিশের তরফে তরুণীকে বলা হয়, ৬৬ লক্ষ টাকা দিলে তিনি অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন। ভয়ের চোটে সেই টাকা দিয়েও দেব ওই তরুণী। তবে এরপর তাঁর খটকা লাগায় চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে আসলে গোটা ঘটনাটি ভুয়ো। প্রতারকদের কবলে পড়েছেন ওই তরুণী। প্রতারকরাই দিল্লি পুলিশ সেজে ফোন করে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়েছে। এরপরই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। শিয়ালদহের এক হোটেল থেকে এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, তরুণীর দেওয়া ৬৬ লক্ষ টাকারও সন্ধান মিলেছে। ধৃতদেরই একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠানো হয়েছিল। ধৃতদের থেকে একাধিক মোবাইল, সিম কার্ড ও ব্যাঙ্কের নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ, এমনটাই খবর।
দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে এমন প্রতারণার ঘটনা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই নিয়ে নানান পদক্ষেপ করা হচ্ছে। একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ ও স্কাইপ আইডি বন্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে নানা পদক্ষেপ ক্রহে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও।সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু তবুও মাঝেমধ্যেই সামনে আসে এমন প্রতারণার ঘটনা।





