ত্রাণের দাবিতে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার তারাগুনিয়া দাসপাড়া এলাকায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীদের তরফে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ইট বৃষ্টি। বিক্ষোভ সামাল দিতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশও। এই ঘটনায় আহত হন বাদুড়িয়া থানার ওসি-সহ ৩ পুলিশকর্মী। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশের বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছন এসডিপিও। এসডিপিও পৌছনোর পরেই চলে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি। যদিও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, ওই এলাকায় গণবন্টনের কোনও সমস্যা নেই।
বুধবার সকাল থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের একাংশ খোলাপোতা-বাদুড়িয়া সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের অভিযোগ, লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার আবেদন সত্ত্বেও তাঁদের এলাকায় এসে পৌঁছায়নি কোনও ত্রাণ। এই দাবিতে শুরু হয় অবরোধ। এই সময় অবরোধ তুলতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ এসেই তাঁদের উপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি লাঠি চার্জ করতে শুরু করে। তার পরেই শুরু হয়ে যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ। পুলিশের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন সিভিক ও ভিলেজ পুলিশ। উত্তেজিত জনতা এবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাথর ছুড়তে শুরু করে। এরমধ্যে দেখা যায় এক খাকি উর্দি ধারী পুলিশ আধিকারিককে মহিলা পুরুষ সবাই মিলে টেনে রাস্তা থেকে গ্রামের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁকে বাঁচাতে পাল্টা লাঠি চালান এক সিভিক পুলিশকর্মী। টানা হ্যাঁচড়ায় রাস্তাতেই পড়ে যান ওই পুলিশ আধিকারিক। এরপর উত্তেজিত জনতা পুলিশের হাত থেকেই লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা পুলিশকেই তাড়া করতে থাকেন। ঘটনায় থানার ওসি-সহ চার পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে থানার ওসি অতিরিক্ত বাহিনী চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে এসডিপিও বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেন। পুলিশের উপর হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানান জেলার এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক।
এই প্রসঙ্গে বাদুড়িয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিত্র ঘোষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওখানকার সকলেই ত্রাণ পেয়েছেন। রাজনৈতিক উস্কানি দিয়ে গন্ডগোল পাকানো হয়েছে।’





