এর আগেও নানান তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রতারণার অভিযোগ। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ কম নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অভিযোগের খাতা যেন আরও মোটা হচ্ছে। এবার ফের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে উঠল মোটা টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়িতে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম প্রীতম ঘোষ। জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের ইঞ্জিনিয়ারিং সেলের প্রাক্তন চিফ কোঅর্ডিনেটর এই প্রীতম। অভিযোগ, নানান সরকারি দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে একাধিকের ইয়থেকে দফায় দফায় লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছে এই যুবক।
শুধু তাই-ই নয়, প্রশাসনিক আধিকারিকের সইও জাল করেছে ওই যুবক, এমনটাই অভিযোগ। এভাবেই জলপাইগুড়ি, কোচবিহার-সহ নানান জেলার যুবকদের থেকে টাকা তোলে প্রীতম। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, ২০২১ সালে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইঞ্জিনিয়ারিং সেলের চিফ কোঅর্ডিনেটর পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় এই প্রীতমকে। দলের নানান নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি দেখিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী বলে অন্যদের কাছে দাবী করত এই যুবক, এমনটাই খবর। আর এভাবেই টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত সে। কারোর থেকে এক লক্ষ, কারোর থেকে দেড় লক্ষ টাকা তোলে ওই যুবক।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই প্রীতমের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল। তৃণমূলের দাবী, লোকসভা নির্বাচনের পরই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চাকরি না পাওয়া যুবকরা প্রীতমকে গতকাল রাস্তায় পাকড়াও করেন। টাকা ফেরতের দাবী তোলেন তারা। তবে টাকা না পাওয়ায় আটকে রাখে তাকে।
এরপরই প্রীতমকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আজ, বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয় তাকে। তদন্তের জন্য ধৃতকে হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। এমন ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে শাসক দল। তবে বিজেপির আবার দাবী, ধৃত যুবক এক এজেন্ট মাত্র। এর পিছনে বড় কোনও মাথার হাত রয়েছে।





