মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চিঠির পাল্টা উত্তর দিয়ে টুইট রাজ্যপালের

এ রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল মনোনীত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যপালের সাথে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সংঘাত একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। করোনার জেরে সেই সংঘাত যেন আরও বেশিমাত্রায় তীব্র হয়ে উঠেছে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ পাতার চিঠির উত্তরে পাল্টা টুইট করেন রাজ্যপাল ধনকড়। টুইটে তিনি লেখেন, “আপনার চিঠিতে অনেক তথ্য ভুল আছে এবং আপনার বয়ান সাংবিধানিকভাবে দুর্বল। রাজ্যের আসল ছবিটা সবার জানা দরকার।”

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1253316083139743749?s=20

করোনা মধ্যে বারংবারই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এবার সেই সংঘাতে ঘৃতাহুতি দিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালকে পাঁচ পাতার একটি চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির প্রতিটি ছত্রে তিনি রাজ্যপালকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার কথা মনে করিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন ১৯৪৯ সালের ৩১মে বাবাসাহেব সংবিধান সভায় বাবাসাহেবের তৈরি সংবিধানে বর্নিত রাজ্যপালের ক্ষমতার কথা।

সম্প্রতি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বারবার খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যপাল। কখনও তাঁর ট্যুইটে উঠে আসে রাজ্যে করোনা-পরীক্ষা না হওয়ার অভিযোগ, কখনও রেশন সামগ্রী বণ্টনে অক্ষমতার কথা। এছাড়া করোনার বিষয়ে সরজমিনে খতিয়ে দেখতে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকেও সহায়তা করার আর্জি জানিয়েও ট্যুইট করেছিলেন রাজ্যপাল।

তাই এবার রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা চড়াও হলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘মনে হয় ভুলে গেছেন, আমি ভোটাধিকারে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আর আপনি কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত রাজ্যপাল। আমার মন্ত্রিসভার পরামর্শ আপনি শুনতে নাই পারেন। কিন্তু সংবিধানকে আপনি অগ্রাহ্য করতে পারেন না। আপনার মন্তব্য আমার অফিসকে অপমান করেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা মনে করি, রাজ্যপালের ক্ষমতা এতটাই সীমাবদ্ধ, এবং পদটি এতটাই আলঙ্কারিক যে, তাঁদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তি ভোটে লড়তে এগিয়ে আসবেন।’ এছাড়াও চিঠিতে তিনি সারকারিয়া কমিশনের সুপারিশেরও উল্লেখ করেন। সেই সুপারিশের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের শাসক দলের কোনও নেতা অন্য দল শাসিত রাজ্যের রাজ্যপাল নিযুক্ত হবেন না, এটাই আশা করা হয়।

আরও অন্যান্য খবর