ভয়ে তটস্থ ব্রিটিশ কিশোরিরা! ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে নয়া আতঙ্ক ‘গ্রুমিং গ্যাং’

‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর (Grooming Gang) ভয়ে তটস্থ ব্রিটিশ (British) শৈশব। নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মাদকাশক্তি, ধর্ম পরিবর্তন- কিছুই বাদ রাখছে না পাক দুষ্কৃতীরা। ইংলিশ চ্যানেলের ওপারের মানুষের আতঙ্ক দেখে কিয়ের স্টার্মার সরকারকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বলে সুর চড়িয়েছেন আমেরিকার ধনকুবের শিল্পপতি ইলন মাস্ক (Elon Mask)। হ্যারি পটার খ্যাত জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক জেকে রাউলিংও একই কথা বলছেন।

রদারহ্যাম কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে উত্তাল ব্রিটেনের রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের পদত্যাগ চেয়ে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। সেই আবহে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ ইস্যু নিয়ে সরগরম ব্রিটেনের রাজনীতি। তৎপর দেশের পুলিশও। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন দুষ্কৃতী এই দলের সদস্যদের নিশানায় মূলত স্কুল বা শিশু আবাসিক কেন্দ্রগুলি। গাড়ি এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তাঁরা। কথার ছলে অল্প বয়সিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে প্রথমে সিগারেট এবং অন্যান্য মাদকের নেশা ধরান, তারপর তাদের উপর যৌন নির্যাতন চালান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে ‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের হদিস পেয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই দেশে প্রায় ১,৪০০টি শিশু এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে নথিভুক্ত না হওয়া কেসগুলির সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়াতে পারে।

প্রসঙ্গত, এই দলের সকল সদস্যই পুরুষ। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পাক নাগরিক। সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী। তাদের টার্গেট স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীরা। নির্যাতিতদের পরিবারের অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও লাভ হয়নি। একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও নাবালিকাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ ব্রিটিশ উর্দিধারীরা।

আরও পড়ুনঃ সংক্রান্তির ঠান্ডায় বৃষ্টির পূর্বাভাস! কোন কোন জেলায়? জানুন আবহাওয়ার আপডেট

ঘটনা প্রসঙ্গে প্ৰখ্যাত লেখিকা রাউলিং নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখছেন, ‘‘ধর্ষকদের কেন গ্রুমিং গ্যাং বলব? এতে ছুরি দিয়ে খুনের পর আততায়ীকে ‘ছুরির মালিক’ বলে সম্বোধন করার সামিল। পুলিশি দুর্নীতির অভিযোগের কথাও শুনেছি। ব্রিটিশ পুলিশের এতটা অধঃপতন হয়েছে, বিশ্বাস করা বেশ কঠিন।’’

আরও অন্যান্য খবর