পুণ্য লাভের আশায় থেকে যায় অবহেলায়! গঙ্গাসাগরে তীর্থে এসে একাকী পড়ে থাকেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে পুণ্য লাভের আশায় দেখা যায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আনাগোনা। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির সময় পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গাসাগর মেলা। সেখানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা গঙ্গা এবং বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে স্নান করতে আসেন। তবে মেলার একটি বাস্তব চিত্র হল একাকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের উপস্থিতি। কেউ স্বেচ্ছায় আসেন আধ্যাত্মিক শান্তি এবং মুক্তির আশায়, আবার কেউ কেউ পরিবারের দ্বারা অবহেলিত হয়ে বা সামাজিক চাপে বাধ্য হয়ে এখানে আশ্রয় নেন।

এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা প্রায়শই আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে আধ্যাত্মিকতার আশ্রয় খোঁজেন। মেলার সময় তাদের অনেকে সাহায্যের আশায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন বা দাতব্য সংস্থার প্রদত্ত খাদ্য ও আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু মেলা ভাঙ্গার পরে অবহেলায় পাওয়া যায় তাদের।

কেউ পরিবারের সঙ্গে এসেও মাঠে-ঘাটে অথবা চায়ের দোকানের পাশে পড়ে থাকেন একাকী। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় থেকে যান এই গঙ্গাসাগরেই। এক বৃদ্ধার বক্তব্যের উঠে এসেছে আর্তনাদের সুর, তিনি বলেছেন ” কি করবো করার কিছু নেই, থাকি সাগরের এখানে যদি কেউ কিছু ভিক্ষা দেয়, পরণবস্ত্র দেয় তাহলে খেয়ে একটু থাকি, তাছাড়া কি করবো, আজ এখানে কাল ওখানে এইভাবেই দিনরাত কাটাই।”

ভালো থাকার কামনায় ছুটে আসা গঙ্গাসাগরে, এবং এক মন বিশ্বাস নিয়ে ফিরে যাওয়া। তবে এরই মধ্যে অনেকে ফেরে কিন্তু আবার অনেক ফেরেনা, গঙ্গাসাগরকেই বানিয়ে নেন তাদের বাকি জীবনের ঠিকানা। সাগরমেলা এখন পরিবর্তিত হয়েছে ভাঙ্গা হাটে আর সে ভাঙ্গা হাটেই সংসারের মায়া ত্যাগ করে পরপারে আশায় পথ চেয়ে থাকেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা।

আরও পড়ুনঃ বিস্ময়কর ঘটনা বটে! হঠাৎ করে মর্গ থেকে বেঁচে উঠলো ‘মৃত’ ব্যক্তি! ভিরমি খেল হাসপাতাল

নিজের কাছের মানুষেরাই শেষ বয়সে এসে হাত ছেড়ে দেন বাবা-মায়ের। রাস্তাঘাটে, মন্দিরে, মাঠে, চায়ের দোকানের পাশে নানান জায়গায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন তারা। যেই গঙ্গাসাগরে পাপ পূণ্যের বিচার হয় সেখানেই অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের ছেড়ে যান তাঁদের চেনা মানুষেরা, কোনো যোগাযোগ মাধ্যম না থাকায় এই ঠিকানায় হয়ে ওঠে তাঁদের শেষ বয়সের আস্তানা।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles